
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি : সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আনা ৭৫ বস্তা ভারতীয় জিরার একটি বড় চালান আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ চোরাই পণ্য জব্দ করে। তবে এই চালানের নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। গোপন সংবাদে পুলিশের বিশেষ অভিযান পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় জিরার একটি বড় চালান অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জৈন্তাপুর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ উসমান গনীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল মাঠে নামে। উপজেলার একটি কৌশলগত পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭৫ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত জিরার বর্তমান বাজারমূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে এবং এই চোরাচালানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এদিকে, সীমান্ত এলাকার একাধিক বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি জব্দ হওয়া জিরার এই বিশাল চালানটি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে দাপিয়ে বেড়ানো আলোচিত চোরাচালান ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ ওরফে ‘ব্রয়লার সেলিম’-এর সিন্ডিকেটের। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেলিম আহমেদ ও তার চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে জৈন্তাপুরের বিভিন্ন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে চা-পাতা, জিরা, সুপারি ও কাপড়সহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য অবৈধভাবে দেশে আনছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, চোরাচালানের পণ্য মাঝে-মধ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও এই সিন্ডিকেটের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ, পরবর্তীতে কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়াকরণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একটি বিশেষ চক্রের মাধ্যমে কম দামে সেই পণ্য আবারও নিজেদের জিম্মায় নিয়ে নেয় তারা। ফলে একই পণ্য বারবার বাজারে ঢুকছে এবং প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। ‘ব্রয়লার সেলিম’ সিন্ডিকেটের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তদন্তে নাম এলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় প্রতিনিয়ত চোরাচালানের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা জৈন্তাপুর উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল মালামাল আটক করলেই চোরাচালান বন্ধ হবে না। এর পেছনে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শুল্ক ফাঁকি রোধ এবং দেশের অর্থনীতি সুরক্ষায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও পুলিশের টহল আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা। এই ঘটনায় জৈন্তাপুর মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল হালিম সাগর সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা) টিকাটুলি ঢাকা ১২০৩। ফোন : 01722-062274, 01715-496849, ই- মেইল halimshagor2000@gmail.com Banglasangbad1@gmail.com dainikbanglasangbadbd@gmail.com সিলেট অফিস :-৪০৬ রংমহল টাওয়ার,(৪র্থ তলা) বন্দর বাজার সিলেট ৩১০০। ফোন : 01972-062274। Canada office : 35 bexhilAve Scarborogh. Toranto. canada.
Design & Development By HosterCube Ltd.