
বিনোদন ডেস্ক: সোমবার ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা না দিলে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে, ইঙ্গিত রাজ্য পুলিশের। তার আগের দিন সমাজমাধ্যমে প্রাক্তন মন্ত্রীকে ‘ভাইফোঁটা’ দিয়ে কটাক্ষের শিকার হওয়া নিয়ে বিস্ফোরক অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। তিনি বললেন, “সবাই কাজের লোভে মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠ হলে সাংসদ শতাব্দী রায় সব ছবির নায়িকা হতেন। কারণ, দীর্ঘ অনেকগুলো বছর ধরে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ।”
পুলিশি হেফাজতে ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। দাদা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও মেসিকাণ্ডের জেরে আইনি সমস্যায়। ১৭ মে শতদ্রু দত্ত বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে ৪ জুন বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। খবর, অসুস্থতার কথা বলে সেই হাজিরা এড়িয়ে যান প্রাক্তন মন্ত্রী। রবিবার তাঁর নিউ আলিপুরের বাড়ির দরজায় দু’টি নোটিস সাঁটিয়ে দিয়ে গিয়েছে রাজ্য পুলিশ। মূল বক্তব্য, সোমবার সকালে থানায় হাজিরা দিতে হবে অরূপকে।
ভাইয়ের মতো দাদাও গ্রেফতার হতে পারেন, এই খবর ছড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন একদল নেটাগরিক। টলিউডের নায়িকারা প্রতি বছর ‘ভাইফোঁটা’য় ফোঁটা দিতেন অরূপকে। সেই মুহূর্ত নতুন করে ভিডিয়ো আকারে ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তালিকায় রয়েছেন অপরাজিতাও। ভিডিয়োর মন্তব্য বিভাগে অকথ্য গালিগালাজ। রবিবার বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে সরব অভিনেত্রী। এ দিন তিনি কথায় কথায় ‘ডিম ছোড়া’কেও বিঁধেছেন। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, “আমরা বাড়ির বড়দের থেকে সৌজন্যবোধ শিখেছি। সেই সৌজন্যবোধের কারণেই স্কুলে বকুনি খেলে ছোটদের ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানাতে শেখাব না আমরা। একই ভাবে সমাজের উপরতলার ব্যক্তিত্বরা আমাদের আমন্ত্রণ জানালে, আমরা সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করি ছোটবেলায় শেখা সৌজন্যবোধ থেকেই।” জানিয়েছেন, আগেও মঞ্চে নেতা-মন্ত্রীরা অশ্রাব্য কথা বলতেন। সে দিন কেউ ডিম ছোড়েননি কেন? অভিনেত্রীর আফসোস, এখন অবশ্য ‘সৌজন্য’ শব্দটাই জীবন থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই মন্ত্রী-ঘনিষ্ঠের ছবি, ভিডিয়ো এ ভাবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলা হচ্ছে, ‘কাজের লোভ’-এ এই ঘনিষ্ঠতা! বিস্ফোরক অপরাজিতা। তাঁর প্রশ্ন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত কয়েক বছর ধরে বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান করেছেন। সেখানে বিখ্যাত শাস্ত্রীয়সঙ্গীত শিল্পী রাশিদ খান, ঊষা উথুপ থেকে দিক্পাল সঙ্গীতজ্ঞ, নৃত্যশিল্পী, চিত্রশিল্পী এবং অভিনেতারাও যেতেন। তাঁদের নতুন করে কী পাওয়ার আছে? কিসের লোভে যেতেন তাঁরা? কোনও লোভ নয়, সম্মান জানিয়ে উপস্থিত থাকতেন সবাই।” তিনি এ-ও দেখেছেন, অনেকেই মঞ্চে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেছেন। এটাই শিষ্টাচার। মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর মন্ত্রিসভার কোনও মন্ত্রী কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে না যাওয়া মানে তাঁকে অপমান করা। কেউ সেটা করতে পারেন না। তাই অপরাজিতার বার্তা, “আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর কোনও মন্ত্রী আমন্ত্রণ জানালেও আমি যাব। এটাই ভদ্রতা বা সৌজন্যবোধ।”উদাহরণ হিসাবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি বক্তব্য তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এক বক্তব্যে শমীকবাবু জানিয়েছেন, ফোন এলে ফোন ধরা, বা়ড়িতে কেউ এলে আপ্যায়ন করে এক কাপ চা দেওয়া ‘মিনিমাম’ ভদ্রতা। তার মানে এ-ই নয়, তিনি ওই আগন্তুকের সমর্থক। ‘মতবিরোধ থাক, সৌজন্যবোধ যেন না হারায়’, শমীকবাবুর বক্তব্য থেকে নতুন করে শিখেছেন অপরাজিতা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল হালিম সাগর সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা) টিকাটুলি ঢাকা ১২০৩। ফোন : 01722-062274, 01715-496849, ই- মেইল halimshagor2000@gmail.com Banglasangbad1@gmail.com dainikbanglasangbadbd@gmail.com সিলেট অফিস :-৪০৬ রংমহল টাওয়ার,(৪র্থ তলা) বন্দর বাজার সিলেট ৩১০০। ফোন : 01972-062274। Canada office : 35 bexhilAve Scarborogh. Toranto. canada.
Design & Development By HosterCube Ltd.