
আব্দুল হালিম সাগর বিশেষ প্রতিবেদন: চায়ের হয়রত শাহজালাল, শাহপরাণ (রহ: সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়ীত সিলেটের রাজনীতির মাঠ এখন উত্তাপ চলছে। প্রতিটি আসেনর প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন নিজের প্রতিকে ভোট দিতে ভোটারদের বিভিন্ন ভাবে উৎসাহিত করছেন। চলছে জনসভা জনসংযোগ, উঠান বৈঠক। জেলার আরো ৫ টি আসনের মতো সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে এই আসনে বইছে উতপ্ত নির্বাচনী হাওয়া। প্রচারণায় মুখর এখন রাজপথ থেকে গ্রামের অলিগলি। তবে এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তিন হেভিওয়েট প্রার্থী, যাদের লড়াইকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। সিলেট-৫ আসনের এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে সম্মুখ সমরে আছেন তিন শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপি জোটের মনোনীত মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, জামায়াত জোটের মনোনীত মুফতি আবুল হাসান ও স্বতন্ত্র এমপি পদপ্রার্থী মামুনুর রশীদ চাকসু মামুন। মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তার রয়েছে বিশাল এক ভোট ব্যাংক। দলীয় ভোট এবং সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি আস্থাশীল। এলাকার সুপরিচিত মুখ হিসেবে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলছে। জোটের ঐক্যবদ্ধ শক্তিই তাঁর মূল হাতিয়ার। অপরদিকে মুফতি আবুল হাসান জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন। তাঁর কর্মী বাহিনীর নিবিড় প্রচারণা এবং নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর দৃঢ় অবস্থান অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্মপ্রাণ ভোটারদের একটি বিশাল অংশ তাঁর প্রধান শক্তি। অপরদিকে বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন) স্বতন্ত্র প্রার্থী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি (চাকসু) মামুনুর রশীদ এবারের নির্বাচনে এক বড় চমক। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ালেও তাঁর রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা। ‘চাকসু মামুন’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা বলে ভোটারদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন।স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জের ভোটাররা এবার প্রার্থীর আদর্শের পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, নদী ভাঙ্গন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে চরম অবহেলার শিকার এই অঞ্চল। দুই জোটের প্রার্থী আলাদা হওয়ায় ভোট ভাগাভাগির একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা পুরো নির্বাচনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মামুনুর রশীদ বড় দলগুলোর ভোটব্যাংকে হানা দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি ঘরানার ভোট ও তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি ঝুঁকে আছে। অনেক সাধারণ ভোটার জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। কেউ বলছেন জোটের শক্তির কথা, আবার কেউ বলছেন নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশার কথা। শেষ পর্যন্ত এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে কার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়বে, তা জানতে ১২ ফেব্রুওয়ারী পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কার হাতে উঠবে জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের আগামীর নেতৃত্ব? উবায়দুল্লাহ ফারুকের জোট শক্তি, মুফতি আবুল হাসানের সাংগঠনিক ভিত্তি, নাকি চাকসু মামুনের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জয়। কিন্তু জমিয়তের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জকিগঞ্জ-কানাইঘাটে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য শক্ত চ্যালেঞ্জ মামুনুর রশীদ- চাকসু মামুন। এই আসনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার হবে বলে মনে করছেন নিরপেক্ষ ভোটাররা। সম্প্রতি জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের কয়েকজন সচেতন ভোটারের সঙ্গে আলপকালে তেমন ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। সিলেট-৫ জকিগঞ্জ-কানাইঘাট আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। আর আসন সমঝোতার রাজনীতির অংশ হিসাবে এখানে বিএনপি কোনো প্রার্থী না দিয়ে জমিয়ত প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়েছে। আর এতে বাদ পড়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির বহিস্কৃত প্রথম সহসভাপতি মামুনুর রশীদ-চাকসু মামুন। মামুন দীর্ঘদিন থেকেই এ আসনে নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি ২০১৮ সালেও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এবারও তিনি দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতি পেয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন বলে প্রচার করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন আর পান নি। এ অবস্থায় বিদ্রোহ করেন মামুন। ঘোষণা করেন, দল যে সিদ্ধান্তই নিকনা কেন, তিনি নির্বাচনে লড়বেন এবং এখন পর্যন্ত তিনি ভোটের মাঠেই আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় ইতিমধ্যেই তার দল বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন। এদিকে বিভিন্ন স্থানে দলের বিদ্রোহীদের পক্ষে কাজ করায় বিএনপির স্থানীয় কমিটিগুলোকেও শাস্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে। কমিটিগুলো বাতিল করা হচ্ছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা সতর্ক। তারা প্রকাশ্যে কেউ মামুনের সঙ্গে নেই। দু’একজন থাকলেও তারা অবস্থান পাল্টে উবায়দুল্লাহ ফারুকের খেজুর গাছের পক্ষেই কাজ করছেন। তবে এত কিছুর পরের চাকসু মামুনই উবাদুল্লাহর জয়ের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে ধারণা করছে এই আসনের সচেতন বিভিন্ন ভোটার। তাদের মতে, অতীতেও জমিয়ত প্রার্থীকে এমপি বানিয়ে তারা কাংখিত উন্নয়ন পান নি। এ অবস্থায় তারা এবার আর জমিয়ত বা খেজুর গাছের দিকে না ঝুঁকে মামুনের দিকেই ঝুকবেন। তাছাড়া, দলীয় শাস্তির ভয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে মামুনের পক্ষে না থাকলেও তাদের কর্মী সমর্থকরা যে নেই, সে নিশ্চয়তাও দেওয়া যাচ্ছেনা। মামুন তার জীবনের একটা বড় সময় কাটিয়েছেন এই জকিগঞ্জ-কানাইঘাটবাসীর জন্য রাজনীতি করে। এ অবস্থায় নিরপেক্ষ অনেক ভোটারের পাশাপাশি বিএনপির মধ্যেও তার ভক্ত অনুরাগীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। শাস্তির ভয়ে তারা তার সঙ্গে না থাকলেও ভোটের দিনে হিসাব নিকাষ পাল্টে যেতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাধারণ ভোটাগণ বলেন, জমিয়ত শক্তিশালী কোনো সন্দেহ নেই। তবে এবার হিসাব অন্যরকম হতে পারেন। দলীয় শাস্তির মুখে পড়ায় মামুনের প্রতি অনেকেরই সহমর্মিতা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে তার পক্ষে মাঠে সক্রিয়। এ অবস্থায় এই আসনে সচেতন মহল উবায়দুল্লাহ ফারুকের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী চাকসু মামুনকেই বড় হুমকি বলে মনে করছেন। আর এই দুই জনের লড়াই বেশ সুবিধা জনক স্থানে রয়েছেন মুফতি আবুল হাসান। শেষ পর্যন্ত কি সাধারণ ভোটারগণ মুফতির দিকেই ঝুকে বসেন এটি দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল হালিম সাগর সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা) টিকাটুলি ঢাকা ১২০৩। ফোন : 01722-062274, 01715-496849, ই- মেইল halimshagor2000@gmail.com Banglasangbad1@gmail.com dainikbanglasangbadbd@gmail.com সিলেট অফিস :-৪০৬ রংমহল টাওয়ার,(৪র্থ তলা) বন্দর বাজার সিলেট ৩১০০। ফোন : 01972-062274। Canada office : 35 bexhilAve Scarborogh. Toranto. canada.
Design & Development By HosterCube Ltd.