
স্টাফ রির্পোটার: মাদক এবং সড়ক দুর্ঘটনারোধ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং হিসেবে দেখছেন সিলেটের নবাগত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক। এছাড়া কোরবানীর ঈদে ভারত থেকে গরু চোরাচালান বন্ধেও চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি শনিবার সকাল ১১টায় সিলেটের পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, যোগদানের পর সহকর্মীদের কাছ থেকে মাদক ও মানব পাচার, চোরাই পণ্য প্রতিরোধে এবং রাতের বেলা উচ্চগতির ট্রাক বা পিকআপ চলাচলসহ অপরাধ বন্ধে সীমান্তবর্তী থানাগুলোর অধিকৃত এলাকায় স্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপনসহ নানা পরামর্শ উঠে এসেছে। সেই আলোকে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। নবাগত পুলিশ সুপার বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে আমাদের তরফ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। তবে এজন্য একটি সামাজিক আন্দোলন দরকার। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবক, তরুণদের প্রাণহানির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। আসলে আমরা নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবিনা। হাইওয়েতে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালাচ্ছি। স্পীডের কোনো বালাই নেই। ইদানিং কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার পর মনে হচ্ছে, এটা যদি আমার পরিবারের কেউ হতো, তাহলে কেমন লাগতো। বিশেষ করে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পদক্ষেপে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, বডি কন্ট্রাক্টে শ্রমিক পাচার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে। প্রবাসীদের সহযোগিতার জন্য জেলা পুলিশের পৃথক প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক রয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, প্রতিদিন প্রচুর ফোন পাই প্রবাসীদের। তাদের প্রত্যেকের ইস্যু হচ্ছে জমিজমা সংক্রান্ত। অধিকাংশ জমিজমা স্বজনরা দখল করে নিয়েছেন কিংবা ঘর বানাতে গেলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকবে না।
এদিকে পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত দিয়ে প্রতিযোগীতা হারে ভারতীয় চোরাইপণ্য প্রবেশ করছে। রাতের বেলা থানার পুলিশ ও টহল পুলিশের সহযোগীতায় এসব চোরাইপন্য সারাদেশে যাচ্ছে। কিন্তু কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ নিচ্ছেনা জেলার পুলিশ। নবাগত এই পুলিশ সুপার যোগদানের পর এই চারটি উপজেলার সীমান্তে বিটে দায়িত্বে থাকা এসআইগং চাঁদার পরিমান বৃদ্ধি করেছেন। কারণ নতুন এসপিকে ম্যানেজ করতে বেশী টাকা লাগবে। এদিকে সীমান্তবর্তী থানার ওসিরা তাদের নিয়োগকৃত লাইনম্যানদের ডেকে বলছেন এখন থেকে ঘাটের (লাইনের টাকার পরিমান বৃদ্ধি করতে হবে। কারণ নতুন এসপি এ বিষয়ে খুব কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এর আগে তিনি যোগদান করেই কল্যাণ সভায় জেলার সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যদের ডেকে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন এবং সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করলে সীমান্তের চোরাচালান থেমে থাকেনি। নবাগত এসপি ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক যোগদানের পরপরই জাফলং সীমান্তের ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়ননের নলজুড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হান্নান। ২নং মধ্যে জাফলং বিট অফিসার ও সালুটিকর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মামুন তাদের নিয়োগকৃত লাইনম্যানদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেছেন এসপিকে ম্যানেজের কথা বলে। জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট থানা পুলিশের একই অবস্থা। যদিও এবিষয়ে নবাগত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেছেন, আমি নতুন এসেছি চোরাচালানের সাথে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গত ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে সিলেট জেলার নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক, এর আগে জামালপুর ও গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তিনি ২৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল হালিম সাগর সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা) টিকাটুলি ঢাকা ১২০৩। ফোন : 01722-062274, 01715-496849, ই- মেইল halimshagor2000@gmail.com Banglasangbad1@gmail.com dainikbanglasangbadbd@gmail.com সিলেট অফিস :-৪০৬ রংমহল টাওয়ার,(৪র্থ তলা) বন্দর বাজার সিলেট ৩১০০। ফোন : 01972-062274। Canada office : 35 bexhilAve Scarborogh. Toranto. canada.
Design & Development By HosterCube Ltd.