
বিশেষ প্রতিবেদক: সিলেট সীমান্তের চোরাচালান কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা প্রশাসন। রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ সুপার, বিজিবির সিও সকলেই যেনো চোরাচালান নিয়ন্ত্রনে বার-বার ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছেন। যদিও মাঝে মধ্যে দু-একটি চোরাচালানের গাড়ি পুলিশ, বিজিবির হাতে আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু এগুলো কেবল আইওয়াশ মাত্র। বড় চালানগুলো নির্বিঘ্নে যেতে এই ছোট চালানগুলো আটক করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলো দেওয়া হয়। সংবাদ মাধ্যম বা টিভি চ্যালেনে চোরাচালানের সংবাদ প্রকাশ করতে করতে স্থানীয় সাংবাদিকরা এক রকম ক্লান্ত। আবার কিছু সাংবাদিক বিক্রি হয়ে গেছেন এসব চোরাকারবারিদের কাছে। তারা দৈনিক-সাপ্তাহিক-মাসিক বখরা নিয়ে থাকেন এসব চোরাকারবারিদের কাছ থেকে। একদিকে উপজেলার লাখো বেকার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের হাহাকার চললেও। উপজেলার চোরাকারবারিরা ও পুলিশের অসাধু কর্তকর্তারা ঠিকই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, চোরাচালান নিয়ন্ত্রনের বদলে এসব চোরাকারবারিদের সহযোগীতা করছে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের শেষ দিকে সিলেট সীমান্তের চোরাচালান ব্যবসাটি মহামারি আকার ধারণ করে। বর্তমানে প্রশাসনের কোন কৌশল আর ব্যবস্থা কোন কাজেই আসছেনা। এদিকে প্রশাসনের উপর মহল সীমান্তের চোরাচালান বন্ধ করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসনকে, অপরদিকে স্থানীয় প্রশাসনের বড় চেয়ারে বসে থাকা কর্তাব্যক্তিরা সীমান্তের চোরাকারবারিদের সাথে থানায় বসেই টাকার বিনিময়ে চোরাকারবারিদের সব রকম সহযোগীতা করে যাচ্ছেন।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং সীমান্ত এলাকা এখন চোরাচালানের ‘স্বর্গরাজ্য’। এক সময়ের দিনমজুর ও পাথর শ্রমিক কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় থানা পুলিশের বিট অফিসার এসআই তানজিলকে ম্যানেজ করে এবং নিজেকে ডিবি ও পুলিশের ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে তিনি সীমান্ত জুড়ে মাদক, শাড়ি, কসমেটিকস ও মোটরসাইকেলের বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
উপজেলার ২ নং পশ্চিম জাফলং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া চোরাচালান ও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী শ্যাম কালা চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, শ্যাম কালার সহযোগী হিসেবে এলাকায় একাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। তারা স্থানীয় প্রশাসনের বিট অফিসার এসআই তানজিলকে প্রভাবিত করে নিজেদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। উপজেলার ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের চোরাচালানের লাইনম্যান যুবলীগ নেতা হাতিরখাল গোচর গ্রামের মশাহিদ আলীর ছেলে কালা মিয়া উরফে শ্যামকালা।
শুধু বিট অফিসার নয় জেলার ডিবি পুলিশের নামেই চাঁদাবাজি করে রাজকীয় বিলাস বহুল জীবন যাপন করে এই কালা। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা জন্য গড়ে তুলেছে একাধিক ভাড়াটে লাঠিয়াল বাহিনী। চাঁদাবাজ পুলিশের লাইনম্যান শ্যাম কালা এখন গোয়াইনঘাটে অপ্রতিরুদ্ধ একটি নাম। এতে সীমান্ত এলাকায় বেড়েছে চোরাচালান, পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবেশ ধ্বংসের ঝুঁকি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওপর আরও একটা সিন্ডিকেট বিট অফিসারকে ম্যানেজ করে বৈধ ইজারা ছাড়াই দিনের পর দিন বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এলাকাবাসী দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং কঠোর আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। এই শ্যাম কালা বছর দশেক আগেও তিনি ছিলেন পাথর শ্রমিক। আর বাবা মোশাহিদ আলী ছিলেন একজন দিনমজুর। তবে দিন পাল্টে গেছে। বারকী শ্রমিক কালা মিয়া এখন সিলেটের শীর্ষ চোরাকারবারি। প্রতিদিন হাতে আসছে কাড়ি কাড়ি টাকা। সেই টাকায় এখন গোয়াইনঘাটের শীর্ষ ধনাঢ্যদের একজন তিনি। তিনি গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের হাতিরখাল গ্রামের দিনমজুর মোশাহিদ আলীর ছেলে। পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে কালা দ্বিতীয়। জন্মসূত্রে দারিদ্রতার করাঘাতে বেড়ে উঠা কালা মিয়া এখন কলকাঠি নাড়েন সর্বত্র। পশ্চিম জাফলং একটি সীমান্তবর্তী এলাকা। যেখানে বারকী শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাধে কালা মিয়ার সখ্যতা গড়ে উঠে ছিচকে চোরাকারবারিদের সাথে। এই সখ্যতাই জীবনে পাল্টে দেয় কালা মিয়ার। ঘুরতে থাকে ভাগ্যের চাকা। চলতি বছরের মার্চ মাসে শ্যাম কালার অবৈধ চোরাচালান রাজ্যে পুলিশের অভিযান ভারতীয় চোরাইপণ্যে ব্যাটারী কসমেটিক্সসহ অর্ধকোটি টাকার মালসহ দুজনকে আটক করেছে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ। উপজেলার তিতারাই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলো উপজেলার উত্তর লাবু গ্রামের ফারুক আহমদ এর ছেলে আব্দুল কাইয়ুম ও ফেনাইকুনা গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে রামীম আহমদ। আটককৃত চোরাচালানের মালের মালিক শ্যামকালা, সে নিজেকে ডিবি এবং পুলিশের লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলায় সকল ধরনের ভারতীয় চোরা কারবারীদের নিয়ন্ত্রন করছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, উপজেলার কুখ্যাত চোরাকারবারি কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা, ওরফে সলিড কালার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায় স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে কালা মিয়া, ওরফে শ্যাম কালার খুব অন্তরঙ্গ ছবি রয়েছে। সম্প্রতি সময়ে তাকে সহযোগীতা করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের এসআই তানজিল। শ্যামকালা বর্তমানে নিজেকে আড়ালে রেখে তার সহযোগীদের দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে রামরাজত্ব। যার ঘরে আগে নুন আনতে পান্তা ফুরাতো সেই ঘরে এখন কোটিপতিদের একজন। বিগত ৫ বছরে কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা’ আঙ্গুল ফুলে রাতারাতি কলাগাছ হয়ে গেছে। বিগত ৫ বছরের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার মালিক এখন কালা মিয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের সূত্রে জানা যায় চোরাকারবারিদের মালামাল পরিবহনের পর কালা নিজেই পুলিশের লাইনম্যান হয়ে গড়ে তোলে তার এক বিশাল চোরাকারবারি সিন্ডিকেট ও নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন ও এস.আই তানজিলকে ম্যানেজ করে অবাধে চালিয়ে যাচ্ছে তার চোরাচালান বাণিজ্য। এহেন কোন ভারতীয় পণ্য নেই যা অবৈধভাবে পাচার করে না কালা সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভারতীয়শাড়ি, কসমেটিক্স, মোটরসাইকেল, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, মদ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেটসহ ভারতীয় সবকিছুই পাঁচারের সাথে জড়িত কালা মিয়া ওরফে শ্যাম কালা সিন্ডিকেট। এলাকাবাসীর অভিযোগ এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গেও জড়িত কালা মিয়া সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পশ্চিম জাফলংএর সোনারহাঁট সীমান্তকে চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। এ ব্যাপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসির মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে জানতে বিট অফিসার এস আই তানজিলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অভিযুক্ত শ্যাম কালার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন,আমি এখন লাইনে নাই।
সম্পাদক ও প্রকাশক: আব্দুল হালিম সাগর সম্পাদকীয় কার্যালয় : ২৬ দেলোয়ার কমপ্লেক্স (৫ম তলা) টিকাটুলি ঢাকা ১২০৩। ফোন : 01722-062274, 01715-496849, ই- মেইল halimshagor2000@gmail.com Banglasangbad1@gmail.com dainikbanglasangbadbd@gmail.com সিলেট অফিস :-৪০৬ রংমহল টাওয়ার,(৪র্থ তলা) বন্দর বাজার সিলেট ৩১০০। ফোন : 01972-062274। Canada office : 35 bexhilAve Scarborogh. Toranto. canada.
Design & Development By HosterCube Ltd.