
স্টাফ রির্পোটার: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় নৃশংস ৫ খুনের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যার পর পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে ঘাতক স্বামী ফোরকান মোল্লা। সেতুর সিসিটিভি’র ফুটেজে ধরা পড়েছে সেই দৃশ্য।
নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর ফোরকানের হদিস পায়নি পুলিশ। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রী-সন্তানদের হত্যার পর নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঘাতক ফোরকান। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ফোরকান মোল্লা। প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা ফোরকান ও শারমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর ঢাকায় বসবাস করলেও ছয় মাস আগে স্ত্রী শারমিন ও তিন সন্তানকে নিয়ে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেন ফোরকান। পেশায় ছিলেন প্রাইভেটকার চালক। তাদের পারিবারিক অশান্তি ছিল। গত ৮ই মে রাতে চাকরির কথা বলে নিজের শ্যালক রসুল মোল্লাকেও গোপালগঞ্জ থেকে কাপাসিয়ায় নিয়ে আসেন ফোরকান।দন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, রাতের খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ কিংবা অচেতন করার কিছু মিশিয়ে স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে অচেতন করা হয়। এরপর ধারালো চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় পাঁচজনকে। ৯ই মে সকালে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেনÑ তার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া (২৩)। শারমিন গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেনের মেয়ে। আর অভিযুক্ত ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ওই রাতেই ফোরকানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন শাহাদাত হোসেন।পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতিসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ফোরকানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে মেহেরপুর এলাকায়। পরে তদন্তে উঠে আসে নতুন তথ্য। এক ট্রাক হেল্পার পদ্মা সেতুর মাঝামাঝি স্থান থেকে একটি মোবাইল ফোন কুড়িয়ে পান। সেই সূত্র ধরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এক ব্যক্তি একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কার থেকে সেতুর মাঝামাঝি স্থানে নেমে আসেন। পরে তিনি মুঠোফোন পাওয়ার স্থানে কিছু একটি রেখে ২-৩ মিনিট অবস্থান করেন এবং একপর্যায়ে সেতুর রেলিং টপকে পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান ও শ্যালককে হত্যা করার পর আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে এখন পর্যন্ত তার লাশ পাওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তিটি ফোরকান মোল্লা কিনা, কিংবা মারা গেছে কিনা, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে বার্তা দেয়া হয়েছে।
Leave a Reply