1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চলছে অপরাধের সাম্রাজ্য: গডফাদারদের ধরতে সরকারের কঠোর বার্তা গাজীপুরে ৫ খুনের ঘাতক ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’ চট্টগ্রাম নগরের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত শিশু রেশমীর মৃত্যু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগ বেলালের মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাটা হয় চুল, দেহ খণ্ড খণ্ড করে মাটিচাপা বরিশালে মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে আ’লীগের গুম-খুনের শিকার ২২৭৬ বিএনপি কর্মী: তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত সুন্দরবনে ১১ জেলে সাত দিন পর ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশের দিকে নজর পড়েছে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চলছে অপরাধের সাম্রাজ্য: গডফাদারদের ধরতে সরকারের কঠোর বার্তা

  • আপটেড সময় : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১০ বার পঠিত

আব্দুল হালিম সাগর বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: চাঁদাবাজি, খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা কিংবা কিশোর গ্যাং, দেশের প্রায় প্রতিটি বড় অপরাধের পেছনেই কাজ করছে কোনো না কোনো অদৃশ্য শক্তি। মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা প্রায়ই ধরা পড়লেও আড়ালের গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থের জোর বা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এসব গডফাদার বছরের পর বছর ধরে গড়ে তুলেছে অপরাধের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।
সিন্ডিকেটের কবলে দেশ: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন অপরাধের পেছনে কোনো না কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে। প্রায়ই অভিযানে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল হোতারা আড়ালে থাকায় অপরাধ থামছে না। বরং নতুন নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে চক্রগুলো দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিগত সময়ে এই অপরাধ জাল এতটাই বিস্তার লাভ করেছে যে, তা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বর্তমানে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে সরকারের বর্তমান নির্দেশনায় পরিস্থিতি উন্নতির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযান ও তালিকা প্রণয়ন: নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজধানীসহ সারাদেশে ছিনতাই, খুন, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, সরকারের নির্দেশে অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছে। একাধিক তালিকা বিশ্লেষণ করে চিহ্নিত গডফাদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাজধানীর গডফাদার ও চাঁদাবাজির চিত্র: কাওরান বাজার: এই এক এলাকাতেই ৬ থেকে ৭ জন গডফাদারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। তাদের অনুসারীরা আড়ত, মার্কেট ও ফুটপাথ থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে। এদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে, যার মধ্যে পতিত আওয়ামী লীগের নেতারাও রয়েছেন। মিরপুর: তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুরের সাতটি থানা এলাকায় ৭২ জন চাঁদাবাজ সক্রিয়, যাদের নেতৃত্বে রয়েছে ২৫ জন গডফাদার। গাবতলী: গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় দখলদার ও চাঁদাবাজদের দীর্ঘ তালিকা তৈরি করেছে প্রশাসন।
কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক ‘বড় ভাই’: রাজধানীর কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব বা ‘বড় ভাইদের’ সম্পৃক্ততার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অর্থ, ক্ষমতার দাপট ও নিরাপত্তার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কিশোরদের এই পথে আনা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রভাবশালী এই নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে সাক্ষী পাওয়া যায় না; ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। ক্ষমতার পালাবদল হলেও এই গডফাদাররা দ্রুত খোলস বদলে নতুন পরিচয় ধারণ করে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের ধরতে যাদের ফোন দেওয়া হয়, তারাই মূলত নেপথ্যের গডফাদার। আবার কিছু অপরাধী বিদেশে বসেও এসব গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করছে।
হত্যাকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তার: সাম্প্রতিক বেশ কিছু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এলাকা নিয়ন্ত্রণ ও পশুর হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কাওরান বাজারে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোছাব্বির হত্যা এবং নিউ মার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পেছনে সন্ত্রাসী চক্রের আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত করেছে।
প্রশাসনের কঠোর অবস্থান: ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “তদবির করে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড়ানো যাবে না। চাঁদাবাজদের কোনো ভিন্ন পরিচয় দেখা হবে না। যারা তদবির করতে আসবে, তাদেরও চক্রের অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।” একইভাবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপিদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে চাঁদাবাজির মামলা দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞের অভিমত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, “ছোট অপরাধীদের পাশাপাশি গডফাদারদের আইনের আওতায় না আনলে এই চক্র ভাঙা সম্ভব নয়। শুধু অভিযান চালিয়ে নয়, বরং অপরাধের পেছনের অর্থের উৎস ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের জায়গাগুলো বন্ধ করতে হবে।”
ঈদুল আজহা ও কোরবানির পশুর নিরাপত্তা: আসন্ন ঈদুল আজহা ঘিরে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের শঙ্কা কাজ করছে। খামারিরা যেন নিরাপদে হাটে পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। মনিটরিং সেল: ঈদের আগে ৭ দিন এবং পরে ৭ দিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে বিশেষ সেল কাজ করবে।যৌথ টহল: র‍্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সমন্বিতভাবে কাজ করবে।প্রযুক্তির ব্যবহার: মহাসড়কে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সিভিল পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।হাটের নিরাপত্তা: সারাদেশে ৪,২৫৯টি পশুর হাটে সিসিটিভি ও জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা : সম্প্রতি পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশ কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, “অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী পরিচয় দেখে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় এবং চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।চাঁদাবাজি, খুন, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা কিংবা কিশোর গ্যাং- প্রায় প্রতিটি বড় অপরাধের পেছনেই থাকে অদৃশ্য শক্তি। মাঠের অপরাধীরা ধরা পড়লেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে আড়ালের গডফাদাররা। স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক ছত্রছায়া, অর্থের জোর বা প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে এসব গডফাদার বছরের পর বছর গড়ে তুলে অপরাধের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানী থেকে জেলা শহর এমনকি গ্রামাঞ্চলেও এখন নানা ধরনের অপরাধের পেছনে আছে কোনো না কোনো অপরাধী সিন্ডিকেট। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই বিভিন্ন অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের তথ্য দিলেও বড় বড় অপরাধ চক্রের মূল হোতারা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। ফলে অপরাধ থামছে না বরং নতুন নতুন সদস্য যুক্ত হয়ে চক্রগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বিগত সময়ে অপরাধ চক্র এতটা জাল বিস্তার করে যা নিয়ে এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেকটা ব্যতিব্যস্ত। তবে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু করায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ঢাকায় ছিনতাই, খুন, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানাবিধ অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন অপরাধে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তারও হচ্ছে। কোথাও কোথাও বিশেষ অভিযানও চালানো হচ্ছে চাঁদাবাজি, মাদক কারবারি ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে। তারপরও নানা স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হওয়ার খবর আসছে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র বলছে, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদক কারবারসহ এ ধরনের অপরাধী ও তাদের আশ্রয়- প্রশ্রয়দাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে সরকারের নির্দেশে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনী নিজস্ব উদ্যোগে এদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিতে শুরু করেছেন। রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও তাদের মদতদাতাদের একাধিক তালিকাও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, একাধিক তালিকা বিশ্লেষণ করে চিহ্নিতদের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, শুধু রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায়ই রয়েছে ৬ থেকে ৭ জন গডফাদার। তাদের অনুসারীদের দিয়ে কাওরান বাজারের বিভিন্ন আড়ত, মার্কেট, ফুটপাথের দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়। একইসঙ্গে চুরি-ছিনতাই ও মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ করে তারা। এসব গডফাদারের বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে এসব করছেন। গডফাদারের এই তালিকায় পতিত আওয়ামী লীগ নেতাও রয়েছেন।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি তালিকায় দেখা যায়, শুধু মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। এসব চাঁদাবাজের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পরিচয় দিয়ে এসব করছেন। তাদের গডফাদার হিসেবে ২৫ জনের নাম এসেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তালিকায়। একইভাবে গাবতলী টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজ ও দখলদারদের অনেকের নাম এসেছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের পেছনেও বড় ভাই বা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। অর্থ, ক্ষমতার প্রদর্শন ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে কিশোরদের এই চক্রে টেনে আনা হচ্ছে। প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষী পাওয়া যায় না, আবার কেউ কেউ ভয়ে মুখ খুলতে চান না। অপরাধে জড়িত কিশোর গ্যাংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বে থাকা গডফাদারদের সংখ্যাও কম নয়। ক্ষমতার পালাবদল হলেও এসব গডফাদাররা খোলস বদলে ফেলে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক কারবারিকে ধরতে যাদের ফোন দেয়া হয় তদন্তে দেখা যায় তারাই গডফাদার। কিছু অপরাধী বিদেশে বসে এসব গ্যাংকে নিয়ন্ত্রণ করে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব অপরাধীরা পার পেয়ে যায়।সম্প্রতি রাজধানীতে সংঘটিত কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের পেছনেও অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য সামনে এসেছে। কাওরান বাজারে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোছাব্বির হত্যার পেছনে এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয় জড়িত বলে গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছিল। এ ছাড়া সম্প্রতি নিউ মার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাইম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রের নাম আসে। পশুর হাট ইজারা নেয়াকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবক’টি মহানগর এলাকা, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও অন্যান্য ইউনিটকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আইনের আওতায় আনার কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া চাঁদাবাজির মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।ওদিকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে সরকারের তরফেও স্পষ্ট বার্তা দেয়া হয়েছে। এমন কাজে জড়িতরা যে দলেরই হোক তাদের গ্রেপ্তার এই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা : পশুবাহী গাড়ি ঘিরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি :সপ্তাহ দুয়েক পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা। সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা পশু কোরবানির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা পশু বাজারজাতের অপেক্ষায় আছেন। পাশাপাশি পশুর হাটের ইজারাদাররাও মাঠ সাজাচ্ছেন। ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে বিভিন্ন হাটে বিক্রি হবে পশু। কিন্তু পশু বিক্রির দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে ততই খামারি ও ইজারাদারদের মধ্যে নানা শঙ্কা ও ভয় কাজ করছে। কারণ অতীতের কোরবানি ঈদের ঘটনা সুখকর না। পশুবোঝাই গাড়ি ডাকাতি, ছিনতাই থেকে শুরু করে পথে পথে চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিগত বছরগুলোতে অনেক পশুবাহী গাড়ি নির্দিষ্ট হাটে পৌঁছানোর আগে বলপ্রয়োগ করে ছিনিয়ে অন্য হাটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও অহরহ। এ ছাড়া খামারির কাছ থেকে পশুবোঝাই গাড়ি রওনা দিয়ে গন্তব্য আসা পর্যন্ত ঘাটে ঘাটে চাঁদা নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পশু বিক্রির নগদ টাকা নিয়েও ছিনতাইকারী, মলম পার্টির কবলে পড়তে হয়েছে অনেক খামারিকে। এ ছাড়াও পশুর হাটে টাকার ছড়াছড়িতে জাল নোট দিয়ে প্রতারণা করেছে কিছু চক্র। সবমিলিয়ে এসব শঙ্কাই ঘুরেফিরে আবার সামনে এসেছে। যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবারের ঈদুল আজহা, ঈদযাত্রা ও পশুবাহী গাড়ি ছিনতাই, চাঁদাবাজি নিয়ে আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। ঈদুল আজহার প্রাক্কালে এবং পরবর্তী সময়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেল ঈদের আগের ৭ দিন এবং পরের ৭ দিন সার্বক্ষণিক কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া র?্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডসহ সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া থানা পুলিশ থেকে শুরু করে র‌্যাব, গোয়েন্দা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি ছিনতাই নিয়ে কাজ করছে।পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, ঈদের আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। তালিকা ধরে ধরে সারা দেশের চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে করে ঈদকে ঘিরে চাঁদাবাজি অনেকাংশে কমবে। চাঁদাবাজিসহ যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি চলবে। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকারও কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা, ডাকাতি, ছিনতাই প্রতিরোধে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এ ছাড়া নৌপথের নিরাপত্তায় পরিকল্পনা সাজিয়েছে নৌ-পুলিশ।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোরবানি ঈদ ঘিরে ব্যাপক চাঁদাবাজি হতে পারে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পেশাদার চাঁদাবাজ, অপরাধীদেরও নজরদারিতে রাখতে হবে। এ সময় আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১১টি হাট থাকবে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জাল নোট শনাক্তে প্রতিটি হাটে ব্যাংকগুলোর বুথ ও মেশিন থাকবে। এ ছাড়া ইজারাদারদের চাহিদানুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অঙ্গীভূত আনসার’ নিয়োজিত করা হবে। চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com