
সম্পাদকীয় : স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২৬ অক্টোবর রাজধানীর মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ায় ফার্মগেট স্টেশনের কাছে একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পড়ে যাওয়া দুটি বিয়ারিং প্যাডের মান যথাযথ ছিল না। একইসঙ্গে যে স্থান থেকে বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়েছিল, সেখানকার ভায়াডাক্টের অর্থাৎ উড়াল পথের নকশাতেও ত্রুটি ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি জানতে পেরেছে, বিচ্যুত বিয়ারিং প্যাডের হার্ডনেস, কমপ্রেশন সেট প্রচলিত স্টান্ডার্ড অনুযায়ী সঠিক ছিল না। এছাড়া বিয়ারিং প্যাডগুলো কিছুটা ঢালু অবস্থায় বসানো হয়েছিল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মেট্রোরেলের ফার্মগেট স্টেশনের দুই পাশের লাইন বৃত্তাকার হয়ে চলে গেছে। ভায়াডাক্টের সোজা অংশ এবং বৃত্তাকার অংশের মধ্যে কোনো ধরনের ট্রানজিশন কার্ড ব্যবহার করা হয়নি। এটা স্পষ্ট যে, মেট্রোরেল রাজধানীবাসীর যাতায়াত দুর্ভোগ অনেকাংশে কমাতে সক্ষম হলেও এর রয়েছে নির্মাণ ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি উদাসীনতা। এই উদাসীনতা ও রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ঘটেছে দুর্ঘটনা এবং আগামী দিনে আরও দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখিত সুপারিশগুলো গভীরভাবে উপলব্ধি করে তা আমলে না নিলে পুরো মেট্রোরেল সিস্টেমটিই অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কার্ড এনালাইনমেট সংশ্লিষ্ট স্থানে বিয়ারিং প্যাড যাতে সরে যেতে না পারে, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আশার কথা, ইতোমধ্যে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আরও সুপারিশ করা হয়েছে, মেট্রোরেলের সার্বিক প্রজেক্ট ডিজাইনের ওপর একটি থার্ড পার্টি সেফটি অডিট পরিচালনার ব্যবস্থা করতে হবে। নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য অতি দ্রুত একটি কার্যকর ও যথাযথ স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, আমরা আশা করব, প্রতিটি সুপারিশ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিপালন করতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সচেষ্ট হবে। দুর্ঘটনায় একটি প্রাণ চলে যাওয়ার ঘটনা আমাদের সতর্ক করেছে, মেট্রোরেলের ত্রুটি না সারালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাজেই গণপরিবহণের এই মাধ্যমটির স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তার স্বার্থে খুব দ্রুতই একে একটি নিরাপদ পরিবহণ হিসাবে নতুন করে সাজাতে হবে।
Leave a Reply