
বিশেষ প্রতিনিধি : পবিত্র ইদকে সামনে রেখে সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় পণ্য। শুধু মাত্র ৩নং পূর্ব ইউনিয়নের সীমান্তকে ৪টি পয়েন্টে ভাগ করে দিয়েছেন স্থানীয় নলজুড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল হান্নান। সীমান্তের গুচ্ছগ্রাম লালমাটি এলাকায় চোরাচারাল দেখবাল করেন স্থানীয় সাদ্দাম রুহিমর ছেলে ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মান্নান উরফে মান্নান মেম্বার। তিনি জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের লাইনের টাকা উত্তোলন করেন। তামাবিল সোনাটিলা এলাকার চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন ইরন। তিনি পুলিশের নিয়োগকৃত লাইনম্যান। তামাবিল স্থলবন্দরে ৩নং গেইট দিয়ে আসা চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করেন জয়দুল ও সাদ্দাম হোসেন। এই দুইজন নলজুড়ি পুলিশ ফাঁড়ির লাইনম্যান। এরা সীমান্ত দিয়ে নিয়ে আসা সকল ভারতীয় পণ্যর বিপরীতে পুলিশের টাকা উত্তোলন করেন। সম্প্রতি গোয়াইনঘাট থানার একাধিক ইউনিয়নরে বিট অফিসার বদল করা হলে আব্দুল হান্নান রয়েছেন বহাল। আর সাথে সকল চোরাকারবারিদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন কনেষ্টবল হামিদ। তিনি নলজুরি বিটের ক্যাশিয়ার হিসাবে দায়িত্বপালন করেন। বিট অফিসার বদল হলেও তিনি থাকেন বহাল তবিয়তে। কারণ তিনি সকল চোরাকারবারিদের চিনেন জানেন। তাই তাকেই যথাস্থানে রাখেন বিট অফিসারগণ। সন্ধ্যা হলেই জাফলং এলাকায় বিভিন্ন চোরাকারবারিদের সাথে বৈঠক করতে দেখা যায় ফাঁড়ির আইসি আব্দুল হান্নান ও কনেষ্টবল হামিদকে। স্থানীয়দের প্রশ্ন চোরাকারবারিদের সাথে বিট অফিসারের এতো সখ্যতা কিসের। কেনোই বার-বার নির্দেশের পরও বন্ধ হচ্ছেনা জাফলং সীমান্তের চোরাচালান। তবে কি এসপি-ডিআইজির কোন নির্দেশ আমলে নিচ্ছেন না জাফলং বিট অফিসের ইনচার্জ এসআই আব্দুল হান্নান। নাকি ওসির ক্ষমতায় সীমান্তের চোরাচালান বহাল রেখেছেন আব্দুল হান্নান। পুলিশের সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে চোরাকরবারিদের কাছ থেকে নাকি মাত্র একলক্ষ টাকা বখরা তোলা হয়েছে। আর চলতি সপ্তাহে টার্গেট নিয়েছেন ৫ লক্ষ টাকা। ফাঁড়ির আইসি চোরাকারবারিদের বলেছেন নতুন এসপি এসেছেন, তাই ওসি, এসপিকে খুশি করতে না পারলে তাকে সেখানে রাখা হবেনা। ফলে সেই টাকার দায়িত্ব নিয়েছেন চোরাকারবারিরা। একদিকে জাফলংয়ে বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে লাখ লাখ শ্রমিক খেয়ে না খেয়ে দিন যাপন করছে। অপরদিকে স্থানীয় চোরাকারবারিদের যোগসাজসে পুলিশের পোয়াবারো অবস্থা চলছে। বিরামহীন ভাবে চলছে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় চোরাচালান। পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে এসব চোরাচালান চলছে পুলিশ নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে। শুধু চোরাকারবারীদের কাছ থেকে ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের নলজুরি পুলিশ ফাঁড়ির দৈনিক ইনকাম লাখ টাকা। বিট অফিসার, থানার ওসি, ওসি তদন্ত, ও জেলার উর্দ্বতন কর্মকর্তার নামে লাইনম্যান নিয়োগ করে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বখরা আদায় করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন সন্ধ্যা হলে নিজেদের নিয়োগকৃত লাইনম্যান নিয়ে বখরার টাকা উত্তোলন করতে মোটর সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ফাঁড়িতে কর্মরত কনেষ্টবল হামিদ। গভির রাত পর্যন্ত তার দায়িত্বই হচ্ছে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে বখরার (লাইনের) টাকা উত্তোলন করা। আবার সপ্তাহ শেষ কিংবা দিনে স্থানীয় সাংবাদিকদের ম্যানেজের দায়িত্ব কিন্ত কনেষ্টবল হামিদেরই। সিলেট জেলা থেকে পরপর দুজন এসপি থানা থেকে একজন ওসি বদল হলেও ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই আব্দুল হান্নান আছেন বহাল তবিয়তে। আর কনেষ্টবল হামিদ আছেন চোরাকারবারিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজীতে ব্যস্থ। ৩নং পূর্ব জাফলং সীমান্তের নলজুরি, তামাবিল স্থলবন্দর, আমতলা, আমসপ্ন, সোনাটিলা, সংগ্রাম পুঞ্জি, লালমাটি, সাইনবোর্ড, ক্যাম্প ক্যান্টিন, জিরো পয়েন্ট, ও সিড়িঘাট দিয়ে দিনে রাতে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় চোরাইপণ্য। এসব পন্য যা নিয়ে আসছে তারা পুলিশের নিয়োগকৃত লাইনম্যানের কাছে নির্ধারিত হারে টাকা দিতে হয়। নতুবা পুলিশ সেই মালামাল আটক করে চালান করে দেয়। আর নির্ধারিত লাইনের টাকা দিলে পুলিশের সামন দিয়ে চোরাচালানের বহর প্রবেশ করলে নিরব দর্শক থাকে পুলিশ।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতার ফলে জাফলং এলাকায় দিনের বেলা অবৈধ ভাবে সকল বালু পাথর উত্তোলন বন্ধ করেছে। কিন্তু রাত গভির হলে পুলিশকে ম্যানেজ করে এখনো বালু পাথর তোলা হচ্ছে। লক্ষ লক্ষ বেকারে কোন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকলে পুলিশ আর লাইনম্যানদের ব্যবসা ঠিকই চলমান রয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় রাত হলে শুরু হয়, কোটি কোটি টাকার ভারতীয় অবৈধ পণ্য সামগ্রী বাংলাদেশ প্রবেশ,সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভারতীয় চিনি, চা পাতা, কীট, কসমেটিক, মদের কাটুন, ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্ট মোবাইল ফোন এর কাটুন সহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে নিরাপদে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। চোরাচালান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে আরো জানা যায়, এসব করতে লাইনের টাকা দেই। জেলা ডিবি ও থানা পুলিশের নামে লাইনম্যান হিসেবে তাদের লোকের কাছে টাকা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে মাল দেশে আনতে হচ্ছে।
এদিকে জাফলং এলাকার লাখো বেকার শ্রমিকের দাবী, বর্তমান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী নির্বাচনের সময়ে সাধারণ শ্রমিকদের আশ্বস্থ্য করেছিলেন সনাতন পদ্ধতিতে হলেও জাফলং পাথর কোয়ারী খোলে দেওয়া হবে। সেই আশাই সময় পার করছেন লাখো বেকার শ্রমিকরা।
চোরাচালান নিয়ে বক্তব্য জানতে জাফলং বিট অফিসার আব্দুল হান্নানকে কল দিলে তিনি ব্যস্থ রয়েছেন বলে ফোন কেটে দেন।
এদিকে এবিষয়ে নবাগত পুলিশ সুপার বলেন, আমি নতুন এসেছি দুদিন হলো যোগদান করেছি। বিষয়টি খবর নিয়ে দেখবো। যদি চোরাচালানের সাথে কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকেন। তাকে বিন্দু মাত্র ছাড় দিবোনা।
সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মুশফেকুর রহমানের কাছে সীমান্তের চোরাচালান নিয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমি প্রতিটি মিটিংয়ে এসপিদের এবং ওসিদের চোরাচালান বন্ধের জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়ে থাকি। বিষয়টি খবর নিয়ে দেখছি, সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a Reply