
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, বিশেষ প্রতিনিধি : সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া হত্যা এবং সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বক্তব্য ও পরীক্ষা দিলেন বর্তমান সরকারের মন্ত্রী, হুইপ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রীসহ ৮ জন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকারের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় তারা জবানবন্দি প্রদান করেন।
আদালতে আসামিদের উপস্থিতি মামলায় হাজিরা দিতে আজ সকালে বিমানযোগে সিলেটে পৌঁছান বর্তমান সরকারের শ্রম, কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। পরে তারা কড়া নিরাপত্তায় আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে শুনানিতে অংশ নেন।
সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. আবুল হোসেন জানান, শাহ এ এস এম কিবরিয়া হত্যা মামলায় আজ রহমত আলী নামে এক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলায় আরও চারজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ৩৪২ ধারায় আসামিদের পরীক্ষা ও বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবী এটিএম ফয়েজ জানান, আদালত পরবর্তী যুক্তি-তর্কের জন্য আগামী ২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ধার্য করেছেন।
কারাগার থেকে হাজির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের (বাধাঘাট) সিনিয়র জেল সুপার নাসির উদ্দিন প্রধান জানান, কঠোর নিরাপত্তায় কারাগার থেকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিসহ অন্যদের আদালতে হাজির করা হয়েছিল। যাদের মধ্যে রয়েছেন: ১. মহিব উল্যাহ অভি (গোপালগঞ্জ) ২. মো. মইন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন (নড়াইল) ৩. হাফেজ মো. নাঈম (সুনামগঞ্জ) ৪. আব্দুল মাজেদ বাট ওরফে ইউসুফ বাট (কাশ্মীর, ভারত) এছাড়া জামিনে থাকা আসামি নাজমুলও আজ আদালতে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সিলেট সদর কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহমুদুল হাই পিপিএম জানান, মন্ত্রী ও হুইপ মহোদয়সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতির কারণে আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এক রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় দিরাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী ও জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
Leave a Reply