1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চলছে অপরাধের সাম্রাজ্য: গডফাদারদের ধরতে সরকারের কঠোর বার্তা গাজীপুরে ৫ খুনের ঘাতক ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’ চট্টগ্রাম নগরের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত শিশু রেশমীর মৃত্যু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগ বেলালের মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাটা হয় চুল, দেহ খণ্ড খণ্ড করে মাটিচাপা বরিশালে মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে আ’লীগের গুম-খুনের শিকার ২২৭৬ বিএনপি কর্মী: তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত সুন্দরবনে ১১ জেলে সাত দিন পর ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশের দিকে নজর পড়েছে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

হাওরে কৃষকের দুর্দশা কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা চাই

  • আপটেড সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

আব্দুল মুনিব কানাডা : হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকার সবচেয়ে বড় একটা মাধ্যম ধান চাষ। ফসল রক্ষা করতে না পারা মানে হাওরের কৃষকদের জীবন-জীবিকার চরম অনিশ্চয়তা। বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টা হাওরে এবার একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার কিছুটা প্রাকৃতিক এবং বাকি অংশটুকু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামঞ্জস্যের অভাবের কারণে সৃষ্ট। হাওরে পরিকল্পনাগত সমস্যাগুলো চাইলে সমাধান করা যায়। হাওরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যই এমন যে এখানে সবসময় পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে হয়। কৃষি অর্থনীতির সম্ভাবনাকে বিবেচনা করলে হাওরে ভূমি ও হাওর শাসনের ক্ষেত্রেও তাই সংবেদনশীলতা জরুরি। প্রাকৃতিক এ বৈচিত্র্যের দরুন হাওরে কৃষকদের বরাবরই নানা প্রতিকূলতার মুখে থাকতে হয়। বিশেষত বৃষ্টির মৌসুমে এ সংকট তীব্র আকার ধারণ করে, কারণ অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারো বৃষ্টির পানিতে সুনামগঞ্জের অনেক হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অতীতে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে বহুবার ফসল নষ্ট হয়েছে। কিন্তু এবার সমস্যাটি আরেকটু ভিন্ন। এবার বৃষ্টির পানিতে হাওরের বহু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পেছনে টেকসই ও হাওরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মানানসই বাঁধ অবকাঠামো না থাকা একটি বড় সমস্যা। প্রয়োজনের সময় বাঁধের মাধ্যমে কৃষিভূমিতে এজন্যই পানি মিলে না। আবার স্লুইস গেট না থাকায় বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি ছাড়ারও তেমন দক্ষ পদ্ধতি নেই। এভাবে বহু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হয় কৃষককে। কিন্তু নিজের শ্রমের ফল বাঁচানোর জন্য কৃষকদের তো থেমে থাকার সুযোগ নেই। অনেকে তাই নিজ উদ্যোগে ফসল রক্ষার বাঁধ কেটে অতিরিক্ত পানি কমানোর চেষ্টা করছেন। অনেক স্থানে কৃষক পানি বের করার মেশিন ভাড়া করছেন। তাতেও বাড়তি খরচ বেড়েছে। এ ভোগান্তি শুধু আর্থিক সংকটেই আর সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সরাসরি জীবনের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে।

সম্প্রতি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার ঘোড়াডোবা হাওরের সউলডোয়ারি ফসল রক্ষা বাঁধ কাটতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে আরমান হোসেন নামে এক তরুণ মারা গেছেন। আরমানের মৃত্যুর এ ঘটনা মর্মান্তিক, কারণ ফসল রক্ষার জন্য সবার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে বাঁধ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। নিহত আরমানের পরিবার গোটা ঘটনায় কাউকে দায়ী করছেন না, দুষছেন নিজেদের কপালকে। এখানেই হাওরের কৃষকের অসহায়ত্ব। তবে আরমানের এ মৃত্যু বর্তমানে হাওরের কৃষকের সমস্যার গভীরতার দিকেও আমাদের তাকাতে বাধ্য করে। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জীবন-জীবিকার সবচেয়ে বড় একটা মাধ্যম ধান চাষ। ফসল রক্ষা করতে না পারা মানে হাওরের কৃষকদের জীবন-জীবিকার চরম অনিশ্চয়তা। বৃষ্টির পানিতে ফসল তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টা হাওরে এবার একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার কিছুটা প্রাকৃতিক এবং বাকি অংশটুকু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সামঞ্জস্যের অভাবের কারণে সৃষ্ট। হাওরে পরিকল্পনাগত সমস্যাগুলো চাইলে সমাধান করা যায়। সেক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে এবং সেগুলোর যুগোপযোগী প্রকল্প নিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এ অঞ্চলের মানুষের ফসল রক্ষায় বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় অনেক কিছু রয়েছে, এমনটিই প্রত্যাশিত। তবে সমস্যার আশু সমাধানের পথও খুঁজতে হবে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে হাওরে কৃষকদের জলাবদ্ধতার কথাকে এখন থেকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী বছর যেন শুরু থেকেই এমন সমস্যার পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য প্রস্তুতি পরিকল্পনা নিতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে যে উদ্যোগগুলো নেয়া যেতে পারে তার মধ্যে প্রথমটি হলো কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যেসব হাওরে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয় সেখানকার কৃষকের তালিকা করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব মেশিন ব্যবহার করা হয় সেগুলোর খরচ সরকার বহন করলে কৃষক উপকৃত হবেন। এদিকে হাওরের পিআইসির কাজ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি দীর্ঘদিনের একটি স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়েছে। পিআইসি-সংক্রান্ত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অনেক বেশি প্রয়োজন। এ কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে করা যেতে পারে। এতে কাজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বাড়বে, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা কমবে।

হাওরের ফসল রক্ষার বাঁধের মেইন জায়গাটা মাটি দিয়ে ভাঙাগড়ার চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির টেকসই স্লুইস গেট নির্মাণ করা অনেক বেশি জরুরি। সব হাওরে পানি ঢোকা ও বের হওয়ার সুবিধার্থে আধুনিক প্রযুক্তির স্লুইস গেট নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। প্রতি বছর ফসল রক্ষার জন্য মাটি কেটে হাওরের পাড়, হাওরের নদীর পাড় বাঁধ দেয়া হয়, পর্যাপ্ত উঁচু না করেই। ফলে প্রতি বছর এসব বাঁধ নষ্ট হচ্ছে, আবার গড়তে হচ্ছে, এতে হাওরে অতিরিক্ত পলি জমছে। মজবুত, উঁচু, টেকসই বাঁধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাওরে নদী খননের প্রকল্প হাতে নিতে হবে। এসব ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কৃষকের সমস্যার সমাধান হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com