1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
অদৃশ্য শক্তির ইশারায় চলছে অপরাধের সাম্রাজ্য: গডফাদারদের ধরতে সরকারের কঠোর বার্তা গাজীপুরে ৫ খুনের ঘাতক ফোরকানের ‘আত্মহত্যা’ চট্টগ্রাম নগরের সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত শিশু রেশমীর মৃত্যু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন বর্তমান সরকারের যথাযথ উদ্যোগ বেলালের মাথা বিচ্ছিন্ন করে কাটা হয় চুল, দেহ খণ্ড খণ্ড করে মাটিচাপা বরিশালে মাদক ব্যবসা, হানিট্র্যাপ, ছিনতাই ও সংঘবদ্ধ অপরাধে নারীদের সম্পৃক্ততা আগের তুলনায় বেড়েছে আ’লীগের গুম-খুনের শিকার ২২৭৬ বিএনপি কর্মী: তদন্তের দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রী ফৌজিয়া আলমের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত সুন্দরবনে ১১ জেলে সাত দিন পর ৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে বাংলাদেশের দিকে নজর পড়েছে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

  • আপটেড সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯ বার পঠিত

আব্দুল মুনিব কানাডা থেকে : জীবাশ্ম তেল বিশ্ব অর্থনীতি, সামরিক শক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি জ্বালানি উৎস। তবে এই উৎসের ওপর নির্ভরতা জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ দূষণ এবং রাজনৈতিক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক ইউএস-ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বিশ্ব তেলের সরবরাহে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে, যা জীবাশ্ম তেলের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমিয়ে পরিবর্তিত ও টেকসই শক্তি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তাকে আরও প্রাধান্য দিয়েছে। এই প্রবন্ধে বিকল্প শক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানি geopolitics এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

১. ভূ রাজনীতি, তেল ও যুদ্ধ: যুক্তিসংগত প্রেক্ষাপট: জ্বালানি সম্পদ কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয় — এটি ভৌগোলিক শক্তির কেন্দ্র। বহু যুদ্ধ ও সংঘাতের পেছনে তেলের রাজনীতি কাজ করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের বিরোধ ভূমধ্যসাগর ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। এ কারণে তেল সরবরাহ ও বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।• ২০২৬ সালের স্ট্রেইট অফ হরমুজ সংকট, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মোট বিশ্ব তেলের প্রায় ২০% সরবরাহের পথে ব্যাঘাত দেখা গেছে, তা আন্তর্জাতিক তেল বাজারকে অস্থিতিশীল করেছে। (Wikipedia) • দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। (Wikipedia)
• মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাইকারি ও খুচরা জ্বালানিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে—যেমন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় গ্যাসের দাম গ্যালন প্রতি $৫ ছাড়িয়ে গেছে। (The Guardian) • যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি, stagflation (দাম বৃদ্ধির সঙ্গে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি কম হওয়া)–এর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। (Investopedia) এই ঘটনাগুলো দেখায় যে তেলের বাজারে ঘটিত খেলাপি কোনো রাজনৈতিক সংঘাতই শুধু সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, তা অর্থনীতি ও জনগণের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলে।এই পরিস্থিতি দেখাচ্ছে যে শুধু অর্থনীতিই নয়, জাতীয় নিরাপত্তাও জীবাশ্ম তেলের উপরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ নির্ভরতা।

২. রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকট
বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো Russian invasion of Ukraine।এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা শুরু করে। কারণ রাশিয়া ছিল ইউরোপের অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহকারী।

এই পরিস্থিতির ফলে: • বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়
• অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়
• বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়

একইভাবে এই ঘটনাও দেখিয়েছে যে জ্বালানি নিরাপত্তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও।

কেন জীবাশ্ম তেলের নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ?
যেহেতু জ্বালানি পরিবর্তন শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়, জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুও, তেলের ওপর নির্ভরতা কয়েকটি কারণে ঝুঁকিপূর্ণ:

(ক) জ্বালানি চোক পয়েন্ট–এর ভরসা
বিশ্ব তেলের একটি বড় অংশ এমন স্ট্র্যাটেজিক জায়গার মাধ্যমে পরিবহন হয় যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। স্ট্রেইট অফ হরমুজ এমন একটি চোক পয়েন্ট যার পূর্ব অভিজ্ঞতাগুলোরও ইতিহাস আছে। (Wikipedia)

(খ) রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
যুদ্ধ বা যুদ্ধের সম্ভাবনা তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়, যা মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। যেমন: আমেরিকায় গ্যাসের দাম বা দাম সংখ্যা রাজনীতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। (Reuters)

(গ) পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের ক্ষতি
এ ধরনের সংঘাতের ফলে বিভিন্ন দেশে কার্যত জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে যেমন ভারত ও বাংলাদেশসহ আরও অন্যান্য দেশগুলোতে দাম বৃদ্ধি, জিডিপি বৃদ্ধির ধীরগতি ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। (ThewWll)

জীবাশ্ম তেলের বিকল্প: কেন তা এখন আরও জরুরি?
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা সামনে এনেছে যে শক্তি নিরাপত্তা শুধু একটি জলবায়ু ইস্যু নয় — এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক কাঠামোর একটি অংশ। এখানে কারণগুলো:
(ক) আন্তর্জাতিক সংঘাত শক্তি সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়: যুদ্ধ বা উত্তেজনা তেলের সরবরাহ রুটে ব্যাঘাত ঘটালে মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পায়, অর্থনীতি বা সাধারণ মানুষের খরচ বাড়ায়।
(খ) নির্ভরতা কমানো জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করে: দেশগুলো যদি জীবাশ্ম তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শক্তি উৎস (যেমন বায়োফুয়েল, হাইড্রোজেন, রিনিউএবল) গ্রহণ করে, তাহলে যুদ্ধ ও গ্লোবাল রাজনৈতিক ঝুঁকি কমে।
(গ) প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা: বিকল্প শক্তি কেবল পরিবেশ রক্ষা করে না; এটি দেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক।

জীবাশ্ম তেলের বিকল্প প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
১. বায়োফুয়েল: জৈব উৎস থেকে তৈরি জ্বালানি
বায়োফুয়েল হলো এমন জ্বালানি যা উদ্ভিদ, ফসল বা জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি হয়।উদাহরণ হিসেবে নারকেল তেল, সয়াবিন তেল বা পাম তেলকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়োডিজেলে রূপান্তর করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সএস্টেরিফিকেশন (Transesterification)। এর ফলে তৈরি হয় Coconut Methyl Ester (CME), যা ডিজেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

ফিলিপাইনের মতো দেশে ডিজেল জ্বালানিতে নারকেল-ভিত্তিক বায়োডিজেল মিশিয়ে ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। একইভাবে ব্রাজিল আখ থেকে তৈরি ইথানল জ্বালানি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।

বায়োফুয়েলের সুবিধা:
• এটি পুনর্নবীকরণযোগ্য
• জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণ
• বিদ্যমান ইঞ্জিনে ব্যবহার করা সম্ভব

তবে বড় আকারে উৎপাদনের ক্ষেত্রে খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা এখন শৈবাল (algae) থেকে তৈরি বায়োফুয়েল নিয়ে গবেষণা করছেন।

২. হাইড্রোজেন শক্তি ও ফুয়েল সেল
হাইড্রোজেনকে ভবিষ্যতের অন্যতম পরিষ্কার জ্বালানি হিসেবে ধরা হয়। কারণ হাইড্রোজেন জ্বালানি ব্যবহারের ফলে প্রধান উপজাত হলো পানি।হাইড্রোজেন ব্যবহার করে ফুয়েল সেল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। ইতোমধ্যে কিছু গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাইড্রোজেন চালিত গাড়ি তৈরি করেছে, যেমন Toyota এবং Hyundai Motor Company।সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হলো গ্রিন হাইড্রোজেন, যা নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পানিকে ভেঙে তৈরি করা হয়।

হাইড্রোজেনের ব্যবহার হতে পারে:
• পরিবহন
• বিদ্যুৎ উৎপাদন
• ইস্পাত ও সার শিল্প

তবে বর্তমানে হাইড্রোজেন উৎপাদনের খরচ এবং অবকাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

৩. বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারি প্রযুক্তি
জীবাশ্ম তেলের ব্যবহার কমানোর অন্যতম প্রধান উপায় হলো বৈদ্যুতিক যানবাহন (Electric Vehicles বা EV)।এই যানবাহনগুলো পেট্রোল বা ডিজেলের পরিবর্তে রিচার্জেবল ব্যাটারি ব্যবহার করে।Tesla এবং BYD Company বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

EV-এর সুবিধা:
• সরাসরি কোনো ধোঁয়া বা দূষণ তৈরি হয় না
• শক্তি ব্যবহারে বেশি দক্ষ
• পরিচালন খরচ কম

এছাড়া গবেষকরা নতুন ধরনের ব্যাটারি যেমন সলিড-স্টেট ব্যাটারি, সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং বড় আকারের গ্রিড শক্তি সংরক্ষণ প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছেন।

৪. সিনথেটিক জ্বালানি (E-fuel)
সিনথেটিক জ্বালানি বা ই-ফুয়েল হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি জ্বালানি।এই জ্বালানি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়:
• হাইড্রোজেন
• কার্বন ডাই-অক্সাইড
• নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ

প্রক্রিয়াটি সাধারণত তিনটি ধাপে হয়:
• ইলেক্ট্রোলাইসিসের মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি
• বাতাস বা শিল্প কারখানা থেকে CO₂ সংগ্রহ
• রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তরল জ্বালানিতে রূপান্তর

এই জ্বালানির বড় সুবিধা হলো এটি বর্তমান ইঞ্জিন ও অবকাঠামোতেই ব্যবহার করা যায়। তাই বিমান ও জাহাজ শিল্পে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৫. নিউক্লিয়ার ফিউশন শক্তি
নিউক্লিয়ার ফিউশন হলো এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে হাইড্রোজেন পরমাণু একত্রিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে। সূর্যের শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়াও একই।

ফিউশনের সুবিধা:
• অত্যন্ত বেশি শক্তি উৎপাদন
• প্রায় শূন্য কার্বন নিঃসরণ
• জ্বালানি উৎস হিসেবে পানির হাইড্রোজেন ব্যবহার করা যায়

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বড় ফিউশন গবেষণা প্রকল্প হলো ITER।যদিও এখনো বাণিজ্যিক ফিউশন বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হয়নি, ভবিষ্যতে এটি বড় শক্তির উৎস হতে পারে।

৬. নতুন পরীক্ষামূলক জ্বালানি প্রযুক্তি
জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প খুঁজতে বিজ্ঞানীরা আরও অনেক নতুন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন।

গ্র্যাভিটিব্যাটারি
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ভারী বস্তু উপরে তোলা হয় এবং পরে নামিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

স্যান্ড ব্যাটারি
বালির মধ্যে তাপ শক্তি সংরক্ষণ করে পরে তা ব্যবহার করা যায়।

ওয়েভ এনার্জি
সমুদ্রের ঢেউয়ের শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

ফ্লোটিং সোলার প্ল্যান্ট
জলাশয়ের উপর ভাসমান সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন।

এই প্রযুক্তিগুলো এখনও উন্নয়নের পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। EV প্রযুক্তি fossil fuel–ভিত্তিক যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করে এবং যুদ্ধ চালিত তেলমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কমিয়ে দেয়।

৭. উপসংহার
মহাত্মা গান্ধী লিও টলস্টয়ের “ওয়ার এন্ড পিস ” বইটি পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। সেজন্য তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংঘাত/রক্তপাত মূলক কর্মসূচি এড়িয়ে চলতেন, সম্প্রতির উপর জোর দিতেন । জানা যায়, সেই সময় অনেক বিশ্বনেতাই উক্ত বই পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়ে বহু সংঘাত এড়িয়েছেন। একটা যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষতি কত, বিকল্প জ্বালানীর গবেষণা খাতে ব্যয় কত হতে পারে তার তুলনামূলক বিশ্লেষণের সময় এসেছে। আমাদের বাংলাদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে “বায়ো—-” সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। বাজেটে ব্যয় বরাদ্দ করে, বিকল্প জ্বালানি উন্নয়নের গবেষণায় তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

জীবাশ্ম তেলের ওপর নির্ভরতা শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয় — এটি ভূ রাজনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার একটি জটিল ইস্যু। সাম্প্রতিক ইউএস ইরান যুদ্ধ ও স্ট্রেইট অফ হরমুজ সংকট বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিল যে তেলের নির্ভরতা ভূ রাজনৈতিক ঝুঁকি ও শক্তি নিরাপত্তা সমস্যা বাড়ায়।এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প শক্তি প্রযুক্তি — বায়োফুয়েল, হাইড্রোজেন, রিনিউএবল, EV, সিনথেটিক জ্বালানি — শুধু পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নয় বরং জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে শক্তি ব্যবস্থার এক বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে যেখানে দেশগুলো শক্তিশালী, টেকসই ও নির্ভরযোগ্য বিকল্প শক্তি নেটওয়ার্কে আরও বিনিয়োগ করবে এবং জীবাশ্ম তেলের ঝুঁকি কমাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com