
বিশেষ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুর পশ্চিম বাজারের পাশে নাসির নগর রোডের স্টিলের ব্রিজের রড সিমেন্টের দোকানের পিছনের ৪র্থ তলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে নারী দেহ ব্যবসার মতো অনৈতিক কাজ ও মাদক ব্যবসা। অভিযোগটি দীর্ঘ দিনের হলে এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ছিলো নিরব। তবে এবার সেই আস্থানায় হানা দিতে চান থানার ওসি মাহ্যবুব। এসব অপরাধ নির্মলে তিনি জিরোটলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। সরেজমিন স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ভবনটির ৪র্থ তলায় ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম চললেও নিচ তলার ভেতরের ডান পাশের চলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ভয়াবহ কর্মকাণ্ড। যা যুবসমাজ ও আইনের জন্য চরম হুমকি। অর্থাৎ ধর্মকে সামনে সাইনবোর্ড রেখে নিচে অনৈতিক কর্মকান্ড। যা নিয়ে ক্ষুভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই ৪র্থ তলা ভবনটির মালিক লাকী বেগম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর থানার হরিনবেড় এলাকার হরিপুর গ্রামের শুক্কুর মিয়ার বাড়ির সিরাজুল ইসলাম ও সাফিয়া বেগমের মেয়ে। তার স্বামীর নাম মাহমুদ মিয়া। লাকি নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছেড়ে সিলেট বিভাগের ভিতরে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলায় জমি কিনে ৪র্থ তলার বিশাল এই ভবন নির্মাণ করে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী এনে দেহ ব্যবসা করে যাচ্ছেন নির্বিঘ্নে। বাসাটি একটি গলির ভিতরে হলে মেইন রোড পর্যন্ত লাগিয়েছেন সিসি ক্যামেরা যাতে প্রশাসনের চোখ সহজে ফাঁকি দিতে পারেন, বা অভিযানের আগে নিজে নিরাপদে সটকে পড়তে পারেন। আলোচিত এই লাকী বেগমের ভোটার কার্ড অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮৬ সালের ৪ জুলাই। চারতলা এই ভবনের ৪র্থ তলায় বাচ্চাদের হাফিজি পড়ার জন্য মাদ্রাসা থাকলেও নিচতলায় লাকি চালান নারীদের দেহ ব্যবসার মতো অসামাজিক কাজ কারবার। প্রতিদিন ৭/৮ টি মেয়ে দেশের ভিন্ন এলাকা থেকে লাকির বাসায় আসে দেহ ব্যবসার জন্য। নিজে পোষণ করেন সন্ত্রাসী বাহিনী। লাকীর বাসায় যাতায়াত রয়েছে অসাধু কিছু পুলিশ সদস্য ও কতিত সাংবাদিকদের। নারীর দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীরা নিয়মিত যাতায়াত করেন বাসাটিতে।
স্থানীয়রা আরো জানান, ভবনটিতে প্রতিদিন অস্বাভাবিক সংখ্যক লোকের যাতায়াত রয়েছে। রাত গভীর হলে পরিস্থিতি আরও রহস্যজনক হয়ে ওঠে। এভাবে লাকি এখন কোটি টাকার মালিক। টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করেনেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন নারী আনা নেওয়া করা হচ্ছে এবং এটিকে কেন্দ্র করে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে। অভিযোগ আছে স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী, থানার ওসি, হবিগঞ্জ জেলার এসপি, জেলার ডিবি পুলিশের নামে বখরা আদায়ের। অথচ থানার ওসি নিজে এই স্পটের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো এতদিন ধরে অভিযোগ থাকলেও কার্যকর কোনো অভিযান বা দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, এই কর্মকাণ্ড কিভাবে প্রকাশ্যে চলতে পারে? এর পেছনে কি কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রয়েছে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেন লাকী বেগম। সেই অর্থের জোরেই একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেছেন তিনি। ফলে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছে। লাকীকে আটক করে তার মোবাইল ফোন পরিক্ষা করলেই পাওয়া যাবে অনেক অপরাধের সত্যতা।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে প্রশাসনের নির্লিপ্ততা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সচেতন মহলের মতে, বিষয়টি এখন আর ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত ইস্যু। তারা অবিলম্বে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নারী ব্যবসায়ী ভবনের মালিক লাকী বেগমের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি, তার বাসায় নারীদেহ ব্যবসার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, প্রশাসনের সকলকে ম্যানেজ করে আগে ব্যবসা করতাম, এখন করিনা, বন্ধ রয়েছে। পরে আবার বলেন, আগে ব্যবসা করতো বাসার ভাড়াটিয়ারা, এখন এসব বন্ধ রয়েছে। আমাদের কাছে গত কালকের ছবি ও ভিডিও আছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব হয়তো আগের, এখন করিনা। আবার বলেন পুলিশ সব জানে। তবে লাকির বাসায় যে মাধবপুর থানার অসাধু পুলিশের অবাধ যাতায়াত রয়েছে এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে, তার কল রেকর্ডের কথায়। আর স্থানীয়রা বলেন, আজই লাকি বাসায় অভিযান হলে ৫/৬ টি মেয়ে পাওয়া যাবে। কিন্তু পুলিশ অভিযান চালায় না। টাকা খেয়ে লাকিকে সেল্টার দেয় তারা। এলাকাবাসীর প্রশ্ন এখন একটাই, অভিযোগের পাহাড় জমলেও কি এবার সত্যিই নড়বে প্রশাসন, নাকি সবই চাপা পড়ে যাবে আগের মতো?
মাধবপুর থানার ওসি মাহ্যবুব বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি, তথ্য পেলে যে কোন অপরাধের বিষয়ে আমি জিরোটলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ব্যবস্থা নিবো। আমি অফিসার পাঠিয়ে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনতো ব্যবস্থা গ্রহণ করিতেছি।
Leave a Reply