
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের রাজনীতিতে সব সময়ই আলোচনার কেন্দ্রে থাকে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। তবে এবারের সমীকরণ ভিন্ন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ ছাপিয়ে এই আসনে এখন লড়াই মূলত দুই মেরুর দুই মিত্রের মধ্যে—বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী এবং জামায়াতের সেলিম উদ্দিন। মাঠের লড়াইয়ে যেমন কৌশলী চাল চলছে দুই পক্ষ, তেমনি সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও এমরান চৌধুরীর চ্যালেঞ্জ
বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীকে দলটির ভেতরে ‘লাকিম্যান’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২১শে জানুয়ারি তারেক রহমানের সিলেট সফরের পর বিয়ানীবাজার বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ড. এনামুল হক চৌধুরী ও ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট নেতারা এমরানের পক্ষে একাট্টা হয়েছেন। তবে মাঠের চিত্র কিছুটা জটিল। সাধারণ ভোটারদের একাংশের মতে, বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ফয়সল আহমদ সরাসরি মাঠে সক্রিয় না থাকায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সুপ্ত অস্বস্তি রয়েছে। প্রার্থী বাছাইয়ে ভুলের কারণে বিএনপিকে এখন ‘খালের কিনার’ থেকে উঠে আসার লড়াই করতে হচ্ছে বলে মনে করছেন খোদ দলেরই কিছু তৃণমূল নেতা।
সেলিম উদ্দিনের ‘মাস্টারস্ট্রোক’ ও ভাইরাল বক্তব্য: অন্যদিকে, বিয়ানীবাজারের সন্তান ও ঢাকা উত্তর জামায়াতের আমীর সেলিম উদ্দিন নির্বাচনী মাঠে বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। জামায়াত এই আসনটিকে তাদের সম্মানের লড়াই হিসেবে নিয়েছে। দলটির সাবেক প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে সেলিম উদ্দিনকে নিয়ে আসাকে জামায়াতের একটি বড় রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হককে সাথে নিয়ে প্রচারণায় নেমে চমক দেখিয়েছেন সেলিম। বিশেষ করে তার একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়েছে: ”নির্বাচিত হলে এসপি বা ওসি আমাকে না জানিয়ে কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না।”
এই বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশকে আশ্বস্ত করলেও বিএনপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। এমরান চৌধুরী পাল্টা হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সেলিম উদ্দিন জয়ী হলে সাধারণ মানুষ বাড়িতে থাকতে পারবে না।
ভোটের তুরুপের তাস: ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের সমর্থন? নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকলেও তাদের একটি বিশাল ভোট ব্যাংক এই আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের একটি বড় অংশ ব্যক্তিগত ও স্থানীয় সমীকরণে বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে। তবে জামায়াতও এই নীরব ভোটগুলো নিজের বাক্সে নিতে মরিয়া।
শেষ হাসি কার? মাঠের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সেলিম উদ্দিন বর্তমানে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তার শক্তিশালী প্রচারণা এবং জোটের ভোটের ওপর নিয়ন্ত্রণ তাকে এগিয়ে রেখেছে। তবে বিএনপির এমরান চৌধুরী যদি শেষ মুহূর্তে দলীয় কোন্দল পুরোপুরি মিটিয়ে সাধারণ ভোটারদের কেন্দ্রে নিতে পারেন, তবে ফলাফল যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। বিএনপি (এমরান চৌধুরী) জামায়াত (সেলিম উদ্দিন) শক্তি তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে দলীয় ঐক্য। সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী ও ওলামায়ে কেরামদের সমর্থন। দুর্বলতা প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভোটারদের একাংশের অসন্তুষ্টি। মহাজোটের ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা। কৌশল ধানের শীষের ঐতিহ্যবাহী ভোট রক্ষা। নিরপেক্ষ ও ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ ভোট ব্যাংকে হানা। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে সিলেট-৬ আসনের ভাগ্য।
Leave a Reply