# ৩ মিনিটে ৩ খুন: সিসিটিভি ফুটেজ ও সময়ের বিপরীতমুখী বাস্তবতা। # নগদ-সোনা অক্ষত, গায়েব কেবল দলিল: ‘কনট্রাক্ট কিলিং’-এর স্পষ্ট আলামত। সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের মোড় কোন দিকে যাচ্ছে ?
আপটেড সময় :
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
১৩
বার পঠিত
আব্দুল হালিম সাগর: সিলেট নগরীর অভিজাত এলাকা রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ভবন ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনার (১৮) বর্বরোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এটিকে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন জনিত আকস্মিক হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে উন্মোচিত হচ্ছে মারাত্মক সব অসঙ্গতি। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, আদালতের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, দুদকের নথিপত্র এবং অপরাধ বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি কেবল এক রংমিস্ত্রির উন্মাদের মতো ঘটানো অপরাধ নয়। বরং এর নেপথ্যে চাপা পড়ে থাকতে পারে শতকোটি টাকার জমি দখলের এক ভয়ঙ্কর সুপরিকল্পিত ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’। ঘটনার পরপরই আটক রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে (৪০) দেওয়া বক্তব্যমতো সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) দাবি করে, কাজ করার সূত্রে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে শারীরিক সম্পর্ক ও বিরোধ নিয়ে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং পরবর্তীতে আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকে গলা কেটে হত্যা করে। তবে বাবুলের দেওয়া বক্তব্য পুলিশি বয়ান হওয়ায় শুরুতেই বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে তদন্ত কার্যক্রম। নিহত তাহমিনা ও আব্দুস সাত্তারের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ সাজানো এবং মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা বলে প্রত্যাখ্যান করেন। মাত্র ২২ দিন আগে গ্রাম থেকে আসা এবং নিজের কোনো ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন না থাকা ১৮ বছরের গৃহকর্মীর সাথে ৪০ বছর বয়সী বাবুলের ‘গভীর প্রেমের’ দাবিটি বাস্তবতার আলোতেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। নিহতের স্বজনদের মতে, মূল মাস্টারমাইন্ডদের আড়াল করতে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ভিকটিম ও গৃহকর্মীর চরিত্রহননের এই মনস্তাত্ত্বিক অপকৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার নতুন মোড় ঘোরে যখন নিহতের প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্তারিত লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে কোনো একক ব্যক্তির ব্যক্তিগত আক্রোশকে অস্বীকার করে স্পষ্ট অভিযোগ করা হয় যে, এটি রিকাবীবাজারের মূল্যবান জমির বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ঘটানো সুপরিকল্পিত ভাড়াটে খুন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, রিকাবীবাজারের সরষপুর এলাকায় ব্রিটিশ আমল থেকে লুসাই (খ্রিস্টান) সম্প্রদায়কে দেওয়া গির্জা ও কবরস্থানের ১.৩৭ একর জমির ওপর নজর পড়ে স্থানীয় ভূমিখেকো চক্রের। ১৯৯৭ সালে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার গির্জা সমিতির কাছ থেকে ১২ শতক জমি বৈধভাবে দীর্ঘমেয়াদী লিজ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। কিন্তু জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আইনজীবী ও ‘ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ২০০৬ সালে ভুয়া সাফকবলা দলিল (নং ১৮৫২২/০৬) তৈরি করে নামজারি করে নেন। এর বিরুদ্ধে আব্দুস সাত্তার ২০১৬ সালে স্বত্ব মামলা দায়ের করেন, যা স্বত্ব-২১১/২০২৩ নম্বরভুক্ত হয়ে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পাশাপাশি জালিয়াতির প্রমাণ পেয়ে ২০২১ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মজিবুর রহমান পাটোয়ারী ও সিরাজুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা (নং-০২) দায়ের করে। ঘটনার দিনের সিসিটিভি ফুটেজ ও সময়রেখা পুলিশের একক আসামির তত্ত্বকে সরাসরি নাকচ করে দেয়। সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী বাবুল মিয়া সকাল ৯টা ২২ মিনিটে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যাওয়ার পর, সকাল ৯টা ২৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার ও আর্তনাদ শোনা যায়। মাত্র ৩ থেকে ৩.৫ মিনিটের ব্যবধানে একজন মধ্যবয়সী মানুষের পক্ষে ঘরের তিনটি পৃথক স্থানে (রান্নাঘর, বারান্দা ও শোয়ার ঘর) গিয়ে ৩ জন মানুষকে পরাস্ত করা, ধস্তাধস্তি করা এবং নিখুঁতভাবে গলার ধমনী (ঈধৎড়ঃরফ অৎঃবৎু) ও শ্বাসনালী কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা চিকিৎসা বিজ্ঞান ও সময়-স্থান বিশ্লেষণের আলোকেও প্রায় অসম্ভব। তাছাড়া নিহতদের শরীরে কোনো আত্মরক্ষামূলক প্রতিরোধ চিহ্ন (উবভবহংব ডড়ঁহফং) না থাকা এবং তিনটি লাশ ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে পাওয়া প্রমাণ করে যে, ঘরের ভেতরে আগে থেকেই একাধিক বা প্রশিক্ষিত পেশাদার ঘাতক দল উপস্থিত ছিল। সেখানে বাবুলকে কেবল মূল ঘাতকদের আড়াল করতে এবং পুলিশের নজর অন্যদিকে ঘোরাতে ‘ডিকয়’ বা দৃষ্টি সরানোর ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এমনকি ঘটনাস্থলের বিপরীত বাসা থেকে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সম্ভাব্য সময়ে ৩ থেকে ৪ জন লোককে একযোগে ওই ভবন থেকে নেমে যেতে দেখা গেছে। এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য প্রকাশ পায় ঘর থেকে নির্দিষ্ট কিছু কাগজ গায়েব হওয়ার মাধ্যমে। অনৈতিক সম্পর্ক বা চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকলে ঘাতকেরা কেন ঘরের আলমারিতে থাকা প্রচুর স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত রেখে কেবল রিকাবীবাজারের মূল্যবান জমির মূল লিজ দলিল, দেওয়ানি স্বত্ব মামলার আইনি নথি ও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে করা থানায় জিডির কপিগুলো বেছে বেছে নিয়ে গেল? মূল বাদী আব্দুস সাত্তারকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া এবং মূল লিজ দলিল গায়েব করে আদালতে বিচারাধীন ১৮৫২২/০৬ নম্বর সাফকবলা দলিল বাতিলের মামলাটি দুর্বল করার মাধ্যমেই জমি দখলের রাস্তা পরিষ্কার করা ছিল প্রধান মোটিভ। আর গৃহকর্মী তাহমিনা ঘাতক দলকে চিনে ফেলা বা ঘরের নিরাপদ প্রবেশ দেখে ফেলায় তাকে ‘সাক্ষী বিলোপ’ (ঊষরসরহধঃরহম ডরঃহবংং) হিসেবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে বেশ কিছু গুরুতর ফরেনসিক ও কারিগরি অসংগতিও দেখা গেছে। যে খালি প্লটে আগের দিন তল্লাশি চালিয়ে কিছু পাওয়া যায়নি, পরদিন সেখান থেকে উদ্ধার করা ছোরায় কোনো তাজা রক্ত বা আলামত ছিল না, যা অস্ত্র এনে ফেলে রাখার সন্দেহ তৈরি করে। নিয়মিত কাজ ছাড়া সুরক্ষিত ভবনের ফটক ও তালাবদ্ধ দ্বিতীয় তলায় ঘাতকদের অবাধ প্রবেশ প্রমাণ করে এর পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ সহায়তা বা সুসংগঠিত ছক ছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাসায় ঢুকে হুমকি দেওয়া, আদালত চত্বরে হামলা ও সিআর মামলা (কোতোয়ালি সিআর ১০৫৭/২০২৫) থাকার পরও প্রধান সন্দেহভাজনদের মোবাইল কল ডিটেইলস (ঈউজ) ও টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাকিং করা অত্যন্ত জরুরি। নিরপেক্ষ সত্য বের করতে নিহতদের নখ, পরিহিত পোশাক ও ঘর থেকে সংগৃহীত জৈব আলামতে বাবুল ছাড়া অন্য কোনো থার্ড-পার্টি ডিএনএ ও আঙুলের ছাপ (খধঃবহঃ ঋরহমবৎঢ়ৎরহঃং) আছে কি না তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রিপল মার্ডার মামলায় অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা বাবুল মিয়ার রিমান্ড শুনানির সময় মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তিনটি প্রশ্ন করেন। প্রথমত, ঘটনার সময় রান্নাঘরের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশিত হয়েছে, অন্য রুমগুলোর ফুটেজ কোথায়? জবাবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শিপলু চৌধুরী বলেন, খুন যে যে রুমে হয়েছে, সেখানে সিসি ক্যামেরা ছিল না। দ্বিতীয়ত, ঘটনার সময় বাসার প্রবেশদ্বারের সিসি ক্যামেরা ফুটেজে একটি বিড়াল নিচে নেমে যেতে দেখা গেছে, তাহলে এর আগে ৫ বা ১০ মিনিটের ফুটেজ কোথায়? জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার তদন্ত হস্তান্তরের সময় সে ফুটেজ তাকে দেওয়া হয়নি। তৃতীয়ত, সিআইডি ক্রাইমসিন করেছে, তার ছবি ও বিবরণ কোথায়? তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এখনো হাতে পাননি। তখন আদালত এসব তথ্য সিডিতে সংযুক্ত করে আদালতকে সিডিসহ দ্রুত অবহিত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মখলিছুর রহমান। এদিকে, আলামত হিসেবে জব্দ করা বাসার সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক আদালতের নথিতে জব্দ তালিকাভুক্ত না করা, সুরতহাল প্রতিবেদন ও জব্দ তালিকা প্রদানে গড়িমসি এবং পুলিশি পাহারার নামে ঘটনাস্থলে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখায় আলামত নষ্ট বা ‘টেম্পারিং’-এর আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ না হতেই রক্তমাখা বাসাটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। অন্যদিকে, বাদী সেলিনা সুলতানার সন্দেহের তীরে থাকা ইম্পালস বিল্ডার্সের কর্ণধার অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ইতোমধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে জানিয়ে পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে এড়িয়ে যান। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবং পুলিশি তদন্তের গতি ও তথ্য গোপন রাখার চেষ্টায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। ঘটনার পাঁচ দিন পর রায়নগরের ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’য় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহত দম্পতির যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে আরিফ ইফতেখার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমাদের বাবা-মা ও ছোট্ট মেয়ে তাহমিনা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না। তবে এই হত্যার সঠিক বিচার হলে আমরা দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারব।” কোনো নিরপরাধ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রভাবশালী অপরাধীরা যেন পার না পান এমন আকুল আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে তারা মামলাটি দ্রুত সিআইডিতে হস্তান্তরের জোর দাবি জানাবেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বোন তাহমিনা, সেলিনা ও তারানাও উপস্থিত ছিলেন। একই সাথে তিনি নিহতদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করার অনুরোধ জানান। সার্বিক বিষয়ে এসএমপি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রায়নগর মিতালী এলাকার হত্যাকাণ্ডগুলো একটি স্পর্শকাতর বিষয় হওয়ায় মামলার তদন্তের স্বার্থে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া তারা উপস্থাপন করতে চাচ্ছেন না। আটক বাবুল মিয়াকে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল এবং রিমান্ড শেষে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে সে অপরাধ স্বীকার করলেও এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত চুক্তিভিত্তিক হত্যা কি না এবং তার জবানবন্দির সত্যতা যাচাইয়ে পিবিআই ও সিআইডির একটি যৌথ দল নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনা, জামাকাপড় এবং নিহতদের শরীরের আঘাত থেকে পাওয়া জৈব আলামত ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য ঢাকার সিআইডি ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে, ভবনের পেছনের গলি ও পাশের আইপি ক্যামেরার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সন্দেহভাজনদের মোবাইল কল ডিটেইলস ও লোকেশন ট্র্যাকিং অ্যানালিসিস করা হচ্ছে। এলাকাটি সম্পূর্ণ পুলিশি নজরদারিতে রয়েছে। নিহতের মেয়ে সেলিনা সুলতানা কর্তৃক দায়েরকৃত এজাহার অনুযায়ী রিকাবীবাজারের বিতর্কিত প্রায় ১.৩৭ একর ভূমি (যার আনুমানিক মূল্য শতকোটি টাকা) নিয়ে বিরোধের বিষয়টিকে তদন্তে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। জমি হাতানোর লক্ষ্যে এটি ঘটেছিল কি না, তা অনুসন্ধানে একটি বিশেষ টিম কাজ করছে। পুলিশ কেবল মূল বাস্তবায়নকারী ধরে তদন্ত শেষ করছে না। ব্যক্তিগত ক্ষোভের আড়ালে এটি কোনো প্রভাবশালী চক্র কর্তৃক চালিত ভাড়াটে খুনি দিয়ে সংঘটিত অপরাধ কি না, উভয় দিক খোলা রেখেই মূল নির্দেশদাতাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা ও চুরির সুনির্দিষ্ট ধারায় (মামলা নম্বর ০২) মামলা রুজু করা হয়েছে এবং উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগ তদন্ত ডকেটে নথিভুক্ত করে অগ্রসর হওয়া হচ্ছে। এজাহারে ও পূর্বে দায়েরকৃত সিআর মামলায় (১০৫৭/২০২৫) অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের কল রেকর্ড পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘর থেকে কেবল মূল্যবান লিজ দলিল ও আইনি নথি গায়েব হওয়াকে সুপরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ মতামত নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট ও আলামত জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। আটক বাবুলকে ৫৪ ধারা ও মূল মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। অপরাধী বা তার পৃষ্ঠপোষক যত প্রভাবশালী বা যে রাজনৈতিক পরিচয়েরই হোক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই এবং তদন্ত সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ, পেশাদার ও প্রভাবমুক্তভাবে সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে। বর্তমানে কোতোয়ালি থানা পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্ত করছে পিবিআই ও সিআইডি। সিলেটের সচেতন নাগরিক সমাজের একটাই দাবি একজন রংমিস্ত্রিকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ঘটনা ধামাচাপা না দিয়ে রিকাবীবাজারের শতকোটি টাকার জমি দখলের নেপথ্য মাস্টারমাইন্ড ও চুক্তিভিত্তিক ঘাতকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
Leave a Reply