
রংপুর প্রতিনিধি : রংপুর নগরীর কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েলসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত দুই খুনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে নিজেদের দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক মিলন চ্যাটার্জি জানান, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করায় নতুন করে রিমান্ডের প্রয়োজন হয়নি। পুলিশের তদন্ত ও সংবাদ সম্মেলনে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জানান, নিহত শিক্ষকের বাড়ির ছাদে বসে অভিযুক্ত দুজন ইয়াবা সেবন করার সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখতে পান এবং বাধা দেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা গণপতি চক্রবর্তীকে গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। এরপর একে একে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ঘুমন্ত অবস্থায় ছোট ছেলে প্রিয়মকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তরা ঘরের বাথরুমে গোসল করে, খেজুর ও ইয়াবা সেবন করে এবং স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুকানো অলংকার উদ্ধার করা হয়। আলামত নষ্ট করতে তারা ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো করে ডাকাতির নাটক সাজায় এবং দুটি মোবাইল ফোন সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখে। নিহত চারজনের মরদেহের মুখমণ্ডল বীভৎস ও ঝলসানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এবং স্বজনরা রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের সন্দেহ করলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, মরদেহ বেশ কিছুটা পঁচে যাওয়ার কারণেই দেখতে এমন মনে হচ্ছিল। নিহত গণপতি চক্রবর্তী কিছুদিন আগেই প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৫ লাখ টাকা তুলেছিলেন, তবে হত্যাকাণ্ডের সাথে এই অর্থের সংযোগ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতদের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে নিহত পরিবার, অভিযুক্ত আসামি, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ কমিশনার ও ফরেনসিক চিকিৎসক একই ধর্মাবলম্বী হওয়ায় এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামির পরনের শার্টের সাথে গোয়েন্দা কর্মকর্তার শার্টের অদ্ভুত মিল থাকায় নেটিজেনদের মধ্যে নতুন আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
Leave a Reply