1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
‘পরকীয়া’ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে সিলেটে ব্যবসায়ী খুন! বেপরোয়া ক্রেনের চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্রেনচালক গ্রেপ্তার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হলেন বদরুজ্জামান সেলিম গোয়াইনঘাটে নদী ও চা-বাগান গিলছে ‘কামরুল-খায়রুল-জুবের-দুলাল’ সিন্ডিকেট সিলেটের তামাবিল ও জাফলংয়ে আ.লীগ বিএনপি লুটপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে শাহপরাণ সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের মোড় কোন দিকে যাচ্ছে ? সারাদেশে নামসর্বস্ব ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর ফাঁদ ‘অপরাধের বিরুদ্ধে এসএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ সিলেটে একের পর এক চিরুনি অভিযান সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনের মতো অসহায় স্থানীয় এমপি

পুনাক একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক, সুশীল ও কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান

  • আপটেড সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

আব্দুল হালিম সাগর বিশেষ প্রতিবেদন : পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক, সুশীল ও কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৭ সালে নিজ অগ্রযাত্রার শুভ সূচনা করার পর থেকে সুদীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে এই সংগঠনটি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের পরিবারের সার্বিক কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন, সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা এবং দেশের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের সামাজিক সেবায় অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে কাজ করে আসছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীনস্ত বিভিন্ন জেলায় পুনাকের উদ্যোগে আয়োজিত বহুমুখী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসমূহকে ঘিরে এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের অভিভাবক ও তাঁর সহধর্মিণীকে জড়িয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে নানামুখী বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির মূল দর্শন, জনকল্যাণমুখী কাজের বিস্তৃত পরিধি, প্রাতিষ্ঠানিক সেবামূলক অবদান এবং দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ চিত্র উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। পুনাক মূলত একটি স্বাধীন, স্বাবলম্বী ও অলাভজনক সেবামূলক প্ল্যাটফর্ম, যা পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের স্ত্রীদের নিখাদ সমাজসেবামূলক দূরদর্শিতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। সংগঠনটির সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী এর প্রতিটি পর্যায়ের নেতৃত্ব নির্ধারিত হয় সম্পূর্ণ পদাধিকারবলে (Ex-officio)। এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ভোটাভুটির প্রক্রিয়া থাকে না। কেন্দ্রীয়ভাবে বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)-র সহধর্মিণী পদাধিকারবলে ‘পুনাক কেন্দ্রীয় কমিটি’র সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম রেঞ্জসহ যেকোনো রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত রেঞ্জ ডিআইজি-র সহধর্মিণী পদাধিকারবলে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ পুনাকের ‘সভাপতি’ এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ কমিশনারের সহধর্মিণী ও জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপারের সহধর্মিণী পদাধিকার বলে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রেঞ্জ বা জেলার সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে উর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহধর্মিণীদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বদলি, পদায়ন পরিবর্তন বা অবসরের সাথে সাথেই উক্ত শাখায় তাঁর সহধর্মিণীর দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমাপ্ত হয় এবং নতুন কর্মকর্তার যোগদানের পর তাঁর সহধর্মিণী দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অন্তর্গত চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় পুনাকের সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কাজের পরিধি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও প্রশংসনীয়। প্রতি বছর শীত মৌসুমে চট্টগ্রাম রেঞ্জের আওতায় পাহাড়ি, উপকূলীয় ও সমতলের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা হাজার হাজার অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে বস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচী পরিচালনা করে পুনাক। যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা বা ঘূর্ণিঝড়ের মতো সংকটাপন্ন মুহূর্তে পুনাকের স্বেচ্ছাসেবীরা খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরি ওষুধপত্র এবং শিশুখাদ্য নিয়ে সরাসরি দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান। এছাড়া যেসব অসচ্ছল নাগরিক অর্থাভাবে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে পারেন না, তাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও চক্ষু ক্যাম্প স্থাপন, প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান এবং জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক অনুদান দিয়ে নিয়মিত পাশে দাঁড়াচ্ছে সংগঠনটি।
সাময়িক ত্রাণ সহায়তা বা দান-ধ্যানের গণ্ডি পেরিয়ে নারীদের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বাধীনতার লক্ষ্যে কাজ করা পুনাকের অন্যতম বড় একটি অর্জন। পুলিশ পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় পিছিয়ে পড়া দুস্থ নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে হস্তশিল্প, সেলাই, বাটিক ও বুটিকের নকশা তৈরি, কুটির শিল্প, ব্লক প্রিন্টিং এবং বেকারি সংক্রান্ত বিভিন্ন মেয়াদী কারিগরি ও মেধাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করে পুনাক। এই প্রশিক্ষণগুলো কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে শত শত নারী আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুলেছেন এবং নিজেদের সংসারের আর্থিক হাল ধরেছেন। একই সাথে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বিভিন্ন জেলায় হস্তশিল্প ও কুটির শিল্প মেলার আয়োজন করা হয়, যেখানে নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পোশাক ও বিভিন্ন হস্তশিল্প প্রদর্শনী ও বিক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে পুনাক প্রতি বছর পুলিশ পরিবারের সন্তানসহ স্থানীয় অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মানজনক শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে, তাদের হাতে বিনামূল্যে বই-খাতা, পোশাকসহ শিক্ষা উপকরণ তুলে দেয় এবং খেলাধুলা ও সাহিত্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক অবদান রেখে চলেছে। অন্যদিকে ২৪ ঘণ্টা টানা কঠিন দায়িত্ব পালন করা পুলিশ সদস্যদের মানসিক চাপ ও বিষাদ দূর করতে এবং তাদের স্বজনদের মাঝে পারিবারিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতেই বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও বিশেষ উপলক্ষে শিল্প সাহিত্য চর্চা, প্রদর্শনী এবং সুশীল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করে থাকে পুনাক। এসব আয়োজিত মেলা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ থেকে সংগৃহীত তহবিলের একটি বড় অংশ সরাসরি এতিমখানা পরিচালনা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিদ্যাপীঠে সহায়তা, দুস্থ নারী পুনর্বাসন এবং মারণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় অকাতরে দান করা হয়। এর আগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)-এর কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছিল সাবেক সভাপতি সিদরাতুল মুনতাহার নেতৃত্বে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। তাঁর মেয়াদে অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের স্থায়ী উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘স্বাবলম্বী’ উদ্যোগের আওতায় রিকশা, ভ্যানগাড়ি এবং ফুডকার্ট বিতরণ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৫ জন অসহায় ব্যক্তির মাঝে নতুন প্যাডেল রিকশা হস্তান্তর করা হয়, যা তাদের পরিবারকে আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করেছে। সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পুনাক নিয়মিত বিভিন্ন মানবিক কর্মসূচি পরিচালনা করতো, যার মধ্যে বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসজুড়ে ভাসমান মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ এবং ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসবগুলোতে শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক শিক্ষা ও নান্দনিক চর্চায় আগ্রহী করতে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, মেহেদী উৎসব এবং জাতীয় দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও নানা বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। শুধু তা-ই নয়, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করতে পুনাক, সিলেটের নিজস্ব অফিস কার্যালয় নির্মাণ করা হয়, যার মাধ্যমে সমিতির প্রাতিষ্ঠানিক ও সেবাধর্মী কাজ পরিচালনা সহজ হয়েছে। এসব সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেট অঞ্চলে পুনাক একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমুখী সংগঠন হিসেবে শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্প্রতি পুনাকের এসব জনকল্যাণমুখী কার্যক্রম এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশকে ঘিরে কয়েকটি অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল ও ফেসবুক পেইজে ভিত্তিহীন ও মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বাস্তবতাবর্জিত বলে দাবি করেছে রেঞ্জ পুলিশের অনেকে। একটি কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল রেঞ্জ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জে পদায়ন ও বদলি বাণিজ্যের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা অনুসন্ধানে সম্পূর্ণ কাল্পনিক প্রমাণিত হয়। রেঞ্জ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মাত্র ২৭ দিন হলো। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে তিনি এখন পর্যন্ত রেঞ্জের কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পদায়ন বা বড় ধরনের কোনো বদলির আদেশই জারি করেননি। এমনকি রেঞ্জ এলাকার সকল জেলাও ডিআইজি পরিদর্শন করতে পারেননি অফিসিয়াল কাজের ব্যস্ততার জন্য। তিনি যোগদানের পর মাত্র দুটি জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) সুপারিশের ভিত্তিতে দুটি থানার ওসি পদে রদবদল করা হয়েছিল, তবে উক্ত বদলিসমূহের পেছনে ডিআইজি কার্যালয়ের কোনো ব্যক্তিগত ভূমিকা বা প্রভাব ছিল না। সংশ্লিষ্ট জেলা এসপিদের সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি মাদক কারবারিদের সহযোগিতার গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছিল এবং অপরজন এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছিলেন। পেশাগত শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট জেলা এসপিরা নিয়ম অনুযায়ী তাদের প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করেন, যেখানে রেঞ্জ ডিআইজির দপ্তর কেবল নিয়মিত দাপ্তরিক অনুমোদন প্রদান করেছে। সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ডিআইজি ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্যের মনগড়া গল্প ফাঁদা হচ্ছে। এসব পেইজে ডিআইজির সহধর্মিণী সিদরাতুল মুনতাহা অফিসে নিয়মিত আসা-যাওয়া এবং প্রশাসনিক ফাইলে প্রভাব বিস্তারের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। রেঞ্জ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, যোগদানের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র একদিনই ডিআইজি কার্যালয়ে এসেছিলেন। সেদিনও তিনি একজন নারী নেত্রী হিসেবে পুনাকের স্বাভাবিক সৌজন্যমূলক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন, এর বাইরে তিনি কখনো ডিআইজি অফিসের বারান্দাতেও আসেননি। ফলে কোনো অসামরিক ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যের রেঞ্জের দাপ্তরিক নথিতে হস্তক্ষেপ বা বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তারের বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে পুনাকের পূর্বনির্ধারিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিকে মূল বিষয়বস্তু থেকে ঘুরিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটানোর হাতিয়ার করা হয়েছে। স্থানীয় একটি ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী মূলত অপপ্রচারে নেমেছে। এমনকি স্বয়ং প্রকাশিত প্রতিবেদনেও স্বীকার করা হয়েছে যে, তোলা অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা লিখিত প্রমাণ নেই। নির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের কাল্পনিক দাবি তোলা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল নীতির পরিপন্থী।

চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের প্রশাসনিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করেছে যে, পুনাকের মতো একটি স্বতন্ত্র সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নিজস্ব দাপ্তরিক, আইনি বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিন্দুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই। বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য পদায়ন, বদলি, প্রমোশন কিংবা অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে প্রচলিত সরকারি চাকরি বিধিমালা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা এবং পুলিশ সদর দপ্তর ও রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অত্যন্ত শৃঙ্খলিত ও প্রাতিষ্ঠানিক নথিপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনিক এই নির্দিষ্ট ও পেশাদার প্রক্রিয়ায় কোনো অলাভজনক সামাজিক সংগঠনের সদস্য বা তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিবর্গের ব্যক্তিগত মতামত, সুপারিশ কিংবা প্রভাব বিস্তারের কোনো আইনি, দাপ্তরিক বা কার্যকরী সুযোগ থাকে না।
চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, নতুন ডিআইজির নেতৃত্বে রেঞ্জে অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের কঠোর পদক্ষেপে যেসব কায়েমি স্বার্থ চরম হুমকির মুখে পড়েছে, তারাই এই ধরনের ভিত্তিহীন রটনা ছড়াচ্ছে। সুদীর্ঘ পাঁচ দশকের এক উজ্জ্বল ঐতিহ্যবাহী পুনাকের মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ ও মানবিক সামাজিক অবদানকে প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বিষয়ের সাথে গুলিয়ে ফেলা সম্পূর্ণ অনুচিত ও অযৌক্তিক। একটি মহৎ সামাজিক সংগঠনের নিরপেক্ষ মানবিক কাজকে গতিশীল রাখতে এবং সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এর সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com
23 August 2026

পুনাক একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক, সুশীল ও কল্যাণমুখী স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান

Dainik Bangla Sangbad.Com