
বিশেষ প্রতিবেদক: পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সফর সম্পন্ন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। আজ ২৪ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে আয়োজিত চমৎকার ও জমকালো ‘মাস্টার প্যারেড’ পরিদর্শন করেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। একই সাথে তিনি জেলা পুলিশের সুসজ্জিত অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে সার্বিক নিরাপত্তার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। সকালে শুভ মুহূর্তে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ লাইন্স কুচকাওয়াজ ময়দানে চট্টগ্রাম রেঞ্জের সম্মানিত ডিআইজি মহোদয় উপস্থিত হলে তাঁকে সুসজ্জিত ব্যাটালিয়ন কর্তৃক গার্ড অব অনার ও সালাম প্রদান করা হয়। নির্ধারিত নিয়ম ও সামরিক কায়দায় ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম প্যারেডের সালাম গ্রহণ করেন। অভিবাদন গ্রহণের পর তিনি প্যারেড পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সাথে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্যারেডে অংশ নেওয়া অফিসার ও বিভিন্ন পদমর্যাদার ফোর্সের শারীরিক সক্ষমতা, ফিটনেস, শৃঙ্খলা, ড্রিল এবং পোশাক-পরিচ্ছদের নিখুঁত মান (টার্ন-আউট) গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন রেঞ্জ প্রধান। পার্বত্যঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ বিবেচনায় রেখে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের উচ্চমাত্রার শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস বজায় রাখার ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দেন।
প্যারেডে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের চমৎকার শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং সুসংগঠিত পারফরম্যান্সে তীব্র সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ডিআইজি। ভালো পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং ফোর্সের মনোবল চাঙ্গা রাখতে তিনি মানসম্মত পারফরম্যান্স প্রদর্শনকারী কর্মকর্তাদের জিএস (গুড সার্ভিস) মার্ক প্রদান করেন। এই প্রণোদনা ফোর্সের ভবিষ্যৎ কর্মস্পৃহা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্যারেড পরিদর্শন শেষে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি জনাব আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম। বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মূলনীতি ধারণ করে সততা, নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও শতভাগ পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “পুলিশকে কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় মানবিক ভূমিকা পালন করতে হবে।” মাঠপর্যায়ে ফোর্সের শৃঙ্খলা ও ড্রেসরুলস্ (পোশাকবিধি) শতভাগ ও যথাযথভাবে প্রতিপালনের ওপর কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপপেশাদার আচরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন।
পার্বত্য অঞ্চলের সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করেন ডিআইজি মহোদয়। মাদকের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত যে কাউকেই আইনের আওতায় আনার বার্তা দেন তিনি।
একই সাথে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা যাতে থানায় এসে কোনো ভোগান্তির শিকার না হন এবং পুলিশের কাছ থেকে সম্মানজনক ও মানবিক সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করাই আধুনিক পুলিশিংয়ের মূল লক্ষ্য।
মাস্টার প্যারেডের কর্মসূচির পর ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, পিপিএম রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রধান অস্ত্রাগার (আর্মারি) পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি অস্ত্রাগারের রেজিস্ট্রার খাতা, মেইনটেন্যান্স লগবুক এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদের বর্তমান মজুদ ব্যবস্থা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখেন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তিনি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরঞ্জামাদির সর্বোচ্চ সুরক্ষা, উপযুক্ত আবহাওয়া অনুযায়ী সংরক্ষণ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি অস্ত্রের সঠিক ব্যবহার, গণনা এবং নিয়মিত সার্ভিসিং অত্যন্ত জরুরি। সার্বিক অস্ত্রাগার ব্যবস্থাপনায় গৃহীত নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা Measures দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন।
আজকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ এই সুসংগঠিত প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব সাহসিকতা ও দক্ষতার সাথে পালন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জনাব মোঃ তারেক সেকান্দার। তাঁর সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে পুরো কুচকাওয়াজ পরিচালনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-সহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জেলা পুলিশ লাইন্স, বিভিন্ন থানা, ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্রের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যগণ এই প্যারেড ও পরিদর্শন সূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মহোদয়ের এই বিস্তারিত সফর, প্যারেড মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এতে বাহিনীর অভ্যন্তরে চেইন অফ কমান্ড আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি পার্বত্যাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানবিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া বহুগুণ ত্বরান্বিত হবে বলে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ মহল।
Leave a Reply