1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৭ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
‘পরকীয়া’ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে সিলেটে ব্যবসায়ী খুন! বেপরোয়া ক্রেনের চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্রেনচালক গ্রেপ্তার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হলেন বদরুজ্জামান সেলিম গোয়াইনঘাটে নদী ও চা-বাগান গিলছে ‘কামরুল-খায়রুল-জুবের-দুলাল’ সিন্ডিকেট সিলেটের তামাবিল ও জাফলংয়ে আ.লীগ বিএনপি লুটপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে শাহপরাণ সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের মোড় কোন দিকে যাচ্ছে ? সারাদেশে নামসর্বস্ব ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর ফাঁদ ‘অপরাধের বিরুদ্ধে এসএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ সিলেটে একের পর এক চিরুনি অভিযান সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনের মতো অসহায় স্থানীয় এমপি

“টাকা হলেই বড়লেখা ভূমি অফিসে সকল কিছু বৈধ”
মৌলভীবাজারের শীর্ষ দূর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর তহসিলদার অশীষ কুমার সরকার

  • আপটেড সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৫ বার পঠিত

আব্দুল হালিম সাগর : মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ (দক্ষিণ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার (উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা) আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ও চরম হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। খাজনা আদায়ে জালিয়াতি, নামজারিতে উৎকোচ গ্রহণ এবং অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের মদদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর একটি যৌথ লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। দুর্নীতির এই ভয়াবহ চিত্রের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা উপ-পরিচালক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগীরা জানান, আশীষ কুমার সরকার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাধারণ ভূমি মালিকদের জিম্মি করে ফেলেছেন। পূর্বে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করা জমির পুরোনো বৈধ রসিদকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ভুয়া’ বা ‘জাল’ বলে দাবি করেন এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া দেখিয়ে অনলাইনে বিপুল পরিমাণ টাকার হিসাব এন্ট্রি করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা দরাদরি করলে মোটা অঙ্কের অবৈধ অর্থ পকেটে পুরে তুলনামূলক কম টাকার অনলাইন রসিদ প্রদান করেন। কেউ এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে রসিদ বাতিল, সার্টিফিকেট মামলা দেওয়া এবং জমি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার মতো ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী মতিলাল দাস জানান, তার জমি সংক্রান্ত খাজনা পরিশোধ করতে গেলে তহসিলদার আশীষ কুমার প্রথমে ৩ লাখ ৮৩ ঃযড়ঁংধহফ ৩৯০ টাকা বকেয়া দেখান। পরবর্তীতে পর্দার আড়ালে সমঝোতার মাধ্যমে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়, যার বিনিময়ে মাত্র ৫০ হাজার টাকার অফিশিয়াল রসিদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন ওই কর্মকর্তা। ভূমি সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ নামজারি (মিউটেশন) প্রক্রিয়াকেও এই কর্মকর্তা বাণিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারীদের অফিসে ডেকে নিয়ে জমির সীমানা, তফসিল কিংবা হিস্যায় কাল্পনিক ত্র্রুটি দেখিয়ে আবেদন পরিবর্তনের ভয় দেখানো হয়। নির্দিষ্ট অঙ্কের ‘টেবিল মানি’ বা উৎকোচ দিলে তৎক্ষণাৎ প্রতিবেদন অনুকূলে চলে যায়, অন্যথায় ত্রুটির অজুহাতে আবেদন বাতিলের সুপারিশ করে সাধারণ মানুষকে মাসের পর মাস ঘোরানো হয়। এর পাশাপাশি কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কেটে ইটভাটায় বিক্রি এবং ভারী ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচলের কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও গ্রামীণ সড়ক ধ্বংসের মুখে পড়লেও এই কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, স্থানীয় প্রশাসন যখনই অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়, আশীষ কুমার সরকার অগ্রিম সেই গোপন তথ্য বা ‘টিপস’ সিন্ডিকেটের কাছে ফাঁস করে দেন। ফলে অভিযানের খবর পেয়ে চালকেরা সটকে পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় না। স্থানীয় বাসিন্দারা এর আগে ইউএনও এবং এসি (ল্যান্ড) অফিসে বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার সম্পূর্ণ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল তাকে হেনস্তা করার জন্য এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। অন্যদিকে, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের অনুলিপি তারা পেয়েছেন এবং এর ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারি কর্মকর্তা (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে ভূমি মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের খাজনা প্রদানে অনলাইনে বেশি টাকা এন্ট্রি দিয়ে পরে উৎকোচ নিয়ে কম টাকার রশিদ প্রদান, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি, ব্রিকফিল্ড মালিক ও ট্রাক/ট্রাক্টর মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কৃষি জমির উর্বরি (টপ সয়েল) মাটি পাচার সহ নানা অনিয়ন-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অর্ধ শতাধিক ভুক্তভোগি জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগিরা অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্থানীয় সংসদ সদস্য, দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক (সমন্বিত হবিগঞ্জ জেলা), বড়লেখা ইউএনও ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর। উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের ভূমি মালিক মতিলাল দাস, মো. কুরেশীয়া, রহিম বক্ত মুসা, মুরাদ হোসাইন, রেজাউর রহমান, দিলিপ দাস, মো.হাসু মিয়া, মছন আলী, আব্দুল কাইয়ুম, সবু মিয়া, মো. জুনেদ আহমদ, কয়েছ আহমদ, বাবুল হোসেন, সামছুল হক প্রমুখ অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগি স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণভাগ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারি তহসিলদার (ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার) আশীষ কুমার সরকার অত্র অফিসের পুর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে খাজনা আদায়ে ভূমি মালিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। ভুক্তভোগিরা দক্ষিণভাগ দক্ষিণ তহসিল অফিসে প্রতিবছরই জমির খাজনা পরিশোধ করেন। এই তহসিল অফিসের আওতাধীন এলাকার অধিকাংশ মানুষ অর্ধশিক্ষিত/প্রবাসী হওয়ায় অনেকেই জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয়ে তেমন বুঝেন না। বিগত বছরের জমির খাজনা তহসিল অফিসে গিয়ে যতটুকু ভূমি ভোগদখল করতেন ততটুকুর খাজনা পরিশোধ করতে পারতেন। কিন্তু ইদানিং জমির খাজনা পরিশোধ করতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আশীষ কুমার সরকার তহসিলদারের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিগত দিনের পরিশোধিত খাজনার রশিদ নিয়ে গেলে তিনি বলেন, এগুলো ভূয়া ও জাল। আমাদের মূল রশিদে ১৪২০ বাংলা পর্যন্ত পরিশোধিত। কারো ১৪১৪ বাংলা, কারো ১৪২৫, ১৪২৯ বাংলা পরিশোধিত সত্ত্বেও তিনি ১৩৭৯ইং সন থেকে বকেয়া দেখিয়ে সব টাকা অনলাইনে পরিশোধের চাপ দেন। পরে তিনি হিসাব করে অনলাইনে আমাদের আইডিতে ২০ হাজার, ৩০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লক্ষ টাকা এন্ট্রি করে দেন। বিরাট অঙ্কের খাজনা দেখে যোগাযোগ করলে সিস্টেমে আসলে তিনি কমিয়ে দিবেন বলে আশ্বস্থ করেন। পরবর্তীতে ১০ হাজার, ২০ হাজার নিয়ে ১১২ টাকার খাজনা রশিদ দেন। যাহা তার ইউজার আইডি ও নোটিশ জারির কপি যাচাই করলে সত্যতা মিলবে। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বিভিন্ন সময়ে খাজনা পরিশোধের জন্য এলাকায় মাইকিং করিয়ে জনসাধারণকে অফিসে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আইন কানুন শুনিয়ে/ভয়ভীতি দেখান। বারবার ধর্না দিলে একপর্যায়ে যার যত টাকার খাজনা নোটিশে লিখেন তার অর্ধেক দিলে তিনি পরিশোধ করে দিতে পারবেন বলে জানান। কিন্তু উক্ত অর্ধেক টাকা দিলে তিনি যৎসামন্য অর্থ্যাৎ ১১২/- বা ১০০০/- থেকে ১৫০০/- টাকার রশিদ প্রদান করেন। কম টাকার রসিদ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নাকি তাকে টাকা দিতে হয়। বেশি কথা বললে রাগান্বিত হয়ে উক্ত রশিদ বাতিল এবং সার্টিফিকেট মামলা দিয়ে উক্ত ভূমি সরকারি খাস খতিয়ানে নিয়ে যাওয়ার হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগিরা আরো বলেন, অনলাইনে ভূমির নামজারী আবেদন করলে এসিল্যান্ড হতে তার কাছে প্রতিবেদন চাইলে তিনি সবাইকে ফোন দিয়ে অফিসে ডাকেন। অফিসে গেলে জমির সীমানা নাই, জমির তফশীল সঠিক নয়, মোহরির ভুল করছে, হিস্যার মিল নেই, নামে ও আবেদনে ভুল আছে ইত্যাদি বলে নামজারী হবে না জানিয়ে ভুক্তভোগিদের ভয়ভীতি দেখান। পরে বিশেষভাবে ম্যানেজ করার ইঙ্গিত দেন। ৫ হাজার/১০ হাজার টাকা দিলে আবেদন রিপোর্ট পক্ষে দেন। টাকা দিলে সমাধান হয়, না হলে বিভিন্ন আইন-কানুন দেখিয়ে নামজারি আবেদন বাতিলের প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। দিনে ও রাতে অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে ট্রাক-ট্রাক্টরে বিভিন্ন ভিটা ভরাটে ও ইটভাটায় পরিবহন করায় এলাকার রাস্তাঘাটগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাস্তাঘাটে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। ভুক্তভোগি এলাকাবাসি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধের ব্যবস্থা নিতে তার কাছে গেলে তিনি ব্যবস্থা নেন না। ইট ভাটা/অবৈধ মাটি ব্যবসায়ি ও পরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ায় অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি তা বন্ধ করেননি। বিভিন্ন কৃষিজমিতে অবৈধ মাটি কাটায় রাস্তাঘাটের ক্ষতি, পরিবেশ বিপর্যয় রোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসি সহকারি কমিশনার (ভূমি)’র কাছে অভিযোগ দেন। তখন সহকারি কমিশনার তাকেই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বললে তিনি অবৈধ মাটি কাটার কোনো স্পট পাননি বলে মিথ্যা তথ্য দেন। এছাড়া সুজানগর ও দক্ষিণভাগ এলাকায় অবৈধ মাটি কাটার খবর পেয়ে এসিল্যান্ড মোবাইল কোর্ট করতে অফিস থেকে বের হতেই তহসিলদার আশিষ কুমার সরকার অবৈধ মাটি ব্যসায়িদের আগাম খবর দিয়ে দেন। এতে এসিল্যান্ড ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই অসাধূরা ট্রাক/ট্রাক্টর ও শ্রমিকদের সরিয়ে ফেলে। আমরা এসিল্যান্টকে অবৈধ মাটি কাটার বিষয়ে বারবার অভিযোগ করলে তিনি বলেন স্থানীয় তহসিলদারকে আমি পাঠাচ্ছি। কিন্তু উক্ত তহসিলদার সেখানে গিয়ে মাটির গাড়ির মালিকের কাছ থেকে ২০/৩০ হাজার টাকা নিয়ে এসিল্যান্টকে বলেন কোন গাড়ি পাইনি, মাটি কাটা হচ্ছে না। ফলে, এলাকাবাসি একাধিকবার ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে অবগত করেও প্রতিকার পাননি। আশীষ কুমার সরকার ২০২৪ সালে এই তহসিল অফিসে যোগদানের পর পরিবেশ বিপর্যয়কারি অসাধু চক্র তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন টিলা ও ফসলি জমির মাটি পাচার করেছে। উপজেলা ভূমি অফিসে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিলে ওই অফিসে থাকা তার সহযোগিরা অভিযোগের কাগজপত্র গায়েব করে ফেলে। যার কারণে এসিল্যান্ড তার অনিয়ম-দুর্নীতির কিছুই জানতেন না। ভুক্তভোগি মতিলাল দাস বলেন, খাজনা দিতে গেলে তহশিলদার আশীষ কুমার সরকার প্রথমে তাকে ৩,৮৩,৩৯০/- টাকা খাজনা আসছে বলে জানান। পুরাতন রশিদ দেখালে সেটি ভূয়া বলে নতুন করে অনলাইনে সম্পূর্ণ খাজনা পরিশোধ করতে বলেন। কোনোভাবে খাজনা কমানোর সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে অনেকক্ষণ হিসাব-নিকাশ করে বলেন, সব মিলিয়ে ১,২৫০০০ টাকা দিবেন। তবে রশিদ পাবেন ৫০ হাজার টাকার। এভাবে চুক্তিবদ্ধ না হলে তিনি জমির খাজনা আদায়ে বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যু দেখিয়ে জনসাধারণকে খাজনা পরিশোধে নিরুৎসাহী করেন। ভূক্তভোগীরা আরোও জানান, যোগদানের পর ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতি/সেক্রেটারীকে সাথে নিয়ে অফিসে দীর্ঘক্ষণ আলাপ-আলোচনা করতো। দম্ভ করে বলতেন তিনি নাকি কলেজে পড়াকালীন কলেজ ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। অভিযাগের ব্যাপারে জানতে চাইলে অনেকটা ধমকের স্বরে তহসিলদার আশীষ কুমার সরকার বলেন, ‘এসব অভিযাগ মিথ্যা-বানোয়াট। আপনার কাছে কোনো প্রমাণ থাকলে নিউজ করতে পারেন। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, ঈদের ছুটি শেষে অফিস খোলার পর অভিযোগটি তদন্তে পাঠাবেন। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com
06 June 2026

মৌলভীবাজারের শীর্ষ দূর্নীতিবাজ ও ঘুষখোর তহসিলদার অশীষ কুমার সরকার

Dainik Bangla Sangbad.Com