
ডেস্ক নিউজ : বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই নতুন কোনো নক্ষত্রের উদয়। পেলে থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিশ্ব চিনেছে অনেক তারকাকে। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপেও তেমনই এক নক্ষত্র হওয়ার আভাস দিচ্ছেন লেনার্ট কার্ল। বায়ার্ন মিউনিখের এই বিস্ময় বালককে ঘিরেই বিশ্বকাপে স্বপ্ন বুনছে জার্মানি।
২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া কার্লের বয়স এখন মাত্র ১৮। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তিনি বায়ার্ন মিউনিখের অন্যতম ভরসা। কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে তিনি যুব দল থেকে সরাসরি মূল দলে জায়গা করে নিয়েছেন। গত ১৯ এপ্রিল বায়ার্নের বুন্দেসলিগা জয়েও কার্লের অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো। লিগে ২৫ ম্যাচে ৫ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৫টি।শুধু ঘরোয়া লিগেই নয়, কার্লের দ্যুতি ছড়িয়েছে ইউরোপিয়ান মঞ্চেও। গত অক্টোবরে ক্লাব ব্রুজের বিপক্ষে তিনি বায়ার্নের সর্বকনিষ্ঠ জার্মান ফুটবলার হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করার রেকর্ড গড়েন। মাত্র ১৭ বছর ২৪২ দিন বয়সে করা সেই গোলটি তাকে বিশ্ব ফুটবলের নজরে নিয়ে আসে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এ মৌসুমে ৮ ম্যাচে ৪ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন।জার্মানির অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ডেনিজ উন্দাভ তো সরাসরিই তার মধ্যে ফ্রাঙ্ক রিবেরির ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘ওর মধ্যে অনেকটা ফ্রাঙ্ক রিবেরির আদল খুঁজে পাওয়া যায়। নিজের বয়সের তুলনায় ও অনেক বেশি স্থির এবং আত্মবিশ্বাসী। মাঠে ও যে ধরনের এনার্জি নিয়ে খেলে, তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। সে এক কথায় দারুণ এক ফুটবলার।’বায়ার্ন সতীর্থ হ্যারি কেইনও কার্লের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেইনের মতে, রক্ষণের ‘ডেডলক’ ভাঙতে কার্লের মতো ফুটবলার দলের জন্য বড় সম্পদ।জার্মানির কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান কার্লকে নিয়ে বলেন, ‘সে প্রথম থেকেই দারুণ প্রভাব ফেলেছে। লেনার্ট মাঠে কিছুটা আক্রমণাত্মক মেজাজের হলেও মানুষ হিসেবে বেশ বিনয়ী। সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে অবস্থান নেওয়া এবং মাঠের ফাঁকা জায়গা খুঁজে বের করার এক সহজাত প্রতিভা রয়েছে তার মধ্যে।’বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি বলেন, ‘সে ভীষণ পরিশ্রমী। অনুশীলন সেশন থেকে শুরু করে টিম মিটিং বা ম্যাচ, সবখানেই সে দারুণ মনোযোগী। সে প্রতিদিন নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং আমি মনে করি সে একদম সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে।’লতি বছরের মার্চে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জার্মানির হয়ে অভিষেক হয় কার্লের। মাঠে নামার পর থেকেই তার আত্মবিশ্বাস দেখে মুগ্ধ কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। চোটের কারণে সার্জ গ্যানাব্রি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় কার্লের জন্য মূল একাদশে জায়গা পাওয়া এখন অনেকটাই নিশ্চিত। ফ্লোরিয়ান রিটজ ও জামাল মুসিয়ালাদের সঙ্গে লেনার্ট কার্লের অন্তর্ভুক্তি জার্মানির আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আগামী ১৪ জুন হিউস্টন স্টেডিয়ামে কুরাসাও-এর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে জার্মানির বিশ্বকাপ অভিযান। ২০ জুন তারা লড়বে আইভরি কোস্টের বিপক্ষে এবং ২৫ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর।
Leave a Reply