মন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে জাফলংয়ে বালু-পাথর লুট: কালা মানিকের নেতৃত্বে বেপরোয়া চাঁদাবাজি
আপটেড সময় :
মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬
৮৩
বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও মাননীয় মন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা জাফলংয়ে আবারও শুরু হয়েছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে জাফলং চা বাগান সংলগ্ন ডাউকি নদীর পাড় কেটে ও তলদেশ থেকে এই লুটপাট চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা মানিক মিয়া ওরফে “কালা মানিক”, যার নেতৃত্বে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি ও পরিবেশ ধ্বংসের যজ্ঞ চলছে।
রাতের আঁধারে ধ্বংসযজ্ঞ, নেপথ্যে ‘বিট অফিসার’!
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জাফলং সংলগ্ন জমিদার বাড়ি মসজিদের দক্ষিণ পাশের বিভিন্ন চোরাই সাইট থেকে প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই অবৈধ কার্যক্রম। শত শত ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর নদীর তীরবর্তী এলাকায় প্রবেশ করে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ পদ্ধতিতে বালু ও পাথর লোড করে নিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারকে মোটা অঙ্কের মাসোহায়ায় “ম্যানেজ” করেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নির্বিঘ্নে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড। ফলে একদিকে যেমন সরকারের লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে শত শত একর আবাদি জমি, চা বাগান ও স্থানীয় বসতভিটা।
রয়্যালটির নামে ‘কালা মানিকের’ লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের পুরো নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছেন কুখ্যাত বালুখেকো কালা মানিক। তাঁর নির্দেশে জাফলংয়ের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ বালু-পাথর বোঝাই প্রতি ট্রাক্টর থেকে “রয়্যালটি” বা টোকেন বাণিজ্যের নামে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক ট্রাক্টর থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কালা মানিকের লাঠিয়াল বাহিনী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কালা মানিকের বিরুদ্ধে অতীতেও জাফলং ও তৎসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় বালু-পাথর লুটপাট, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজির একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু অজ্ঞাত খুঁটির জোরে বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় সে এবার আরও বেপরোয়া রূপে আবির্ভূত হয়েছে।
ঝুঁকিতে জাফলং, বাড়ছে ক্ষোভ
জাফলংকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র এবং পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এভাবে যন্ত্র ও ট্রাক্টর ব্যবহার করে নদীর পাড় কাটার ফলে চিরতরে হারাতে বসেছে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দাবি, এখনই এই আত্মঘাতী তৎপরতা বন্ধ না হলে জাফলং অববাহিকায় ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় নেমে আসবে।
প্রশাসন যা বলছে
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে মন্ত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে বা পরিবেশের ক্ষতি করে কেউ যদি বালু-পাথর উত্তোলন ও চাঁদাবাজি করে থাকে, তবে দ্রুত খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা এই চক্রের মূল হোতা কালা মানিকসহ তার পেছনে থাকা নেপথ্যের গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে অতি দ্রুত টাস্কফোর্সের অভিযান দাবি করেছেন।
Leave a Reply