
আব্দুল মুনিব : রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সংযোজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ। ৭ মে থেকে শুরু হওয়া ‘অটোমেটেড ট্রাফিক প্রসিকিউশন’ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মামলা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের মনে কিছুটা হলেও ভীতি তৈরি করেছে। তবে এ প্রযুক্তির সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুঁজি করে মাঠে নেমেছে একদল ধূর্ত সাইবার প্রতারকচক্র। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, এআই ক্যামেরার মামলার ভয় দেখিয়ে সাধারণ যানবাহনের মালিকদের মুঠোফোনে ফিলিপাইনের কান্ট্রি কোড সংবলিত আন্তর্জাতিক নম্বর থেকে ভুয়া বার্তা পাঠানো হচ্ছে। বিআরটিএ-এর ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি অত্যন্ত নিখুঁত ‘ফিশিং লিংক’ ব্যবহার করে নাগরিকদের ব্যাংক কার্ডের অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এ ঘটনা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের সতর্কসংকেত। জানা যায়, প্রতারণার এ জালটি এতই নিখুঁত যে, লিংকে গিয়ে যে কোনো গাড়ির নম্বর দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ভুয়া মামলা ও ৩ হাজার টাকার জরিমানা স্ক্রিনে ভেসে ওঠে। আরও ভীতিপ্রদ বিষয় হলো, তিন দিনের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করলে ৫০ শতাংশ ছাড়ের লোভনীয় টোপ দিয়ে নাগরিকদের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, মেয়াদ ও সিভিভি কোড সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে একাধিক সচেতন নাগরিক ইতোমধ্যেই এ প্রতারণার মুখোমুখি হয়েছেন। আমরা মনে করি, এ ঘটনার পেছনে বড় যে ত্রুটিটি দৃশ্যমান, তা হলো রাষ্ট্রীয় একটি বৃহৎ প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সময় ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচারণার অভাব। এছাড়া নিয়মিত তদারকি ও সমন্বিত পূর্বপ্রস্তুতি থাকলে কোনো প্রযুক্তির উদ্বোধনের পরপরই এমন বড় ফাটল তৈরি হতে পারত না। তাছাড়া, ডিজিটাল মাধ্যম বা এসএমএস-এর যুগে এখনো একটি অত্যাধুনিক এআই ব্যবস্থার মামলা কেন কেবল ডাকযোগে সনাতন চিঠির ওপর নির্ভর করে থাকবে-সে প্রশ্নও এড়ানো যায় না। আবার শুধু ‘সতর্ক থাকুন’ বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ সরকারের কোনো সংস্থার নেই। রাজধানীর অন্তত ৫০০টি পয়েন্টে ধাপে ধাপে এআই ক্যামেরা বসানোর যে মহাপরিকল্পনা রয়েছে, তা সফল করতে হলে আগে এর নিরাপত্তা প্রাচীর মজবুত করতে হবে। বিটিআরসি, ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং সিআইডিকে যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক ফিশিং নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন করতে হবে। সরকার এ ব্যাপারে অবিলম্বে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
Leave a Reply