1. halimshagor2011@gmail.com : bangla sangbad : bangla sangbad
  2. admin@dainikbanglasangbad.com : H@dainikbS :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
‘পরকীয়া’ নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে সিলেটে ব্যবসায়ী খুন! বেপরোয়া ক্রেনের চাপায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, ক্রেনচালক গ্রেপ্তার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হলেন বদরুজ্জামান সেলিম গোয়াইনঘাটে নদী ও চা-বাগান গিলছে ‘কামরুল-খায়রুল-জুবের-দুলাল’ সিন্ডিকেট সিলেটের তামাবিল ও জাফলংয়ে আ.লীগ বিএনপি লুটপাট সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে শাহপরাণ সিলেটে আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের মোড় কোন দিকে যাচ্ছে ? সারাদেশে নামসর্বস্ব ক্লিনিকে রোগীর মৃত্যুর ফাঁদ ‘অপরাধের বিরুদ্ধে এসএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ সিলেটে একের পর এক চিরুনি অভিযান সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর বালু সিন্ডিকেটের কাছে প্রশাসনের মতো অসহায় স্থানীয় এমপি

নামে প্রকল্প, কাগজেই আাছে বাঘ হয়ে
সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প, ৫ বছরেও আসেনি কোন কাজে

  • আপটেড সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১২ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: জামালপুর পৌরবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল পানি শোধনাগার ও পানির ট্যাংক। কিন্তু প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর পরও সেখান থেকে এক ফোঁটা পানিও পায়নি নগরবাসী। কাগজে-কলমে সম্পন্ন এ প্রকল্প এখন তালাবদ্ধ ভবন, মরিচা ধরা যন্ত্রপাতি ও অব্যবহৃত অবকাঠামোর নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বগাবাইদ বোর্ডঘর এলাকায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পানির ট্যাংকটি দূর থেকে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার একটি কার্যকর অবকাঠামো বলেই মনে হয়। কিন্তু কাছে গেলেই স্পষ্ট হয় ভিন্ন চিত্র। চারদিকে নীরবতা, অবহেলা ও অযত্নের ছাপ বহন করা এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে আছে। পৌরবাসীর ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, তা পূরণ না হওয়ায় অবকাঠামোটি এখন উন্নয়নের সাফল্যের বদলে অপচয়ের প্রতীক হিসেবেই বেশি আলোচিত।শুষ্ক মৌসুমে পৌরবাসীর নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছিল প্রকল্পটি। প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় পানি শোধনাগার এবং তিন কোটি চার লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ৬৮০ কিউবিক মিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক। ২০২১ সালে প্রকল্পটি জামালপুর পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হলেও আজ পর্যন্ত চালু হয়নি এটি। এতে একদিকে যেমন বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী, অন্যদিকে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে ভবন ও মূল্যবান যন্ত্রপাতি।স্থানীয়দের অভিযোগ,নিম্নমানের কাজ ও সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির কারণেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখছে না।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কোটি টাকার প্রকল্প, কিন্তু আজ পর্যন্ত ১ টাকারও সেবা মেলেনি। এ প্রকল্পের শুরু থেকেই ছিল অনিয়ম ও দুর্নীতি। নিম্নমানের কাজ, তদারকির অভাব এবং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণেই এখনো চালু করা যাচ্ছে না পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। ‘প্রকল্পটি যখন হস্তান্তর করা হয়েছে তখন সেটি ভালো ছিল এবং ভালো ছিল বলেই এটি রিসিভ করেছে। হস্তান্তরের পরে অনেকদিন চালু ছিল। এরপরে কি হয়েছে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরাতো হস্তান্তর করেই দিয়েছি। এরপরেও যদি কোনো সমস্যা আসে, সেটি আমাদের লিখিতভাবে জানালে আমরা কিউর করে দিতে পারি’ স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও আমরা পৌরবাসী এখনো বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অচল পড়ে আছে। জনগণের অর্থে নির্মিত এই প্রকল্প কেন চালু হলো না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। আরেক বাসিন্দা ফিরোজ রহমান হিরা বলেন, পানির ট্যাংক নির্মাণের পরও প্রকল্পটি কার্যকর না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের দায়িত্ব ও ভূমিকা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল হক বলেন, বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি পড়ে আছে। এ সময়ে জন প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পরিবর্তন হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অব্যবহারে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনগণের অর্থে নির্মিত এই প্রকল্প দ্রুত চালু করে পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানাই। ‘এত বড় একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও আমরা পৌরবাসী এখনো বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি না। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি অচল পড়ে আছে। জনগণের অর্থে নির্মিত এই প্রকল্প কেন চালু হলো না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত’ সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে ধুলাবালি জমে আছে। যন্ত্রপাতির বেশ কিছু অংশে মরিচা পড়েছে। পলি দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে মূল মেশিনটিও। আশপাশের পরিবেশও অরক্ষিত। পৌরবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদার, পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটি চালুর দাবি জানিয়েছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি পৌর প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। তবে তারা জানিয়েছেন, পাইপলাইনের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পুরো প্রকল্প সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। ‘বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পটি পড়ে আছে। এ সময়ে জন প্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা পরিবর্তন হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। অব্যবহারে অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জনগণের অর্থে নির্মিত এই প্রকল্প দ্রুত চালু করে পৌরবাসীকে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানাই’
জামালপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। জামালপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, এ বিষয়ে আমরা এখনো অবগত নই। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয়, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জামালপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জামাল হোসেন মোবাইল ফোনে বলেন, প্রকল্পটি যখন হস্তান্তর করা হয়েছে তখন সেটি ভালো ছিল এবং ভালো ছিল বলেই এটি রিসিভ করেছে। হস্তান্তরের পরে অনেকদিন চালু ছিল। এরপরে কি হয়েছে সেটা তাদের ব্যাপার। আমরাতো হস্তান্তর করেই দিয়েছি। এরপরও যদি কোনো সমস্যা আসে, সেটি লিখিতভাবে জানালে আমরা কিউর করে দিতে পারি।

Share this news as a Photo Card

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ
© All rights reserved © 2018 dainikbanglasangbad.com
Design & Development By Hostitbd.Com
10 June 2026

সাড়ে ৮ কোটি টাকার প্রকল্প, ৫ বছরেও আসেনি কোন কাজে

Dainik Bangla Sangbad.Com